দুর্নীতিকে সোজাসুজি ‘না’ বলুন! সরকারি কর্মী ঘুষ চাইলেই সাধারণ মানুষের জন্য বড় পদক্ষেপ রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার

রাজ্যে সরকারি পরিষেবা প্রদানে স্বচ্ছতা আনতে এবং প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি দমনে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা (Anti-Corruption Bureau)। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি কোনো সাধারণ মানুষের কাছে বেআইনিভাবে ঘুষ দাবি করেন, উৎকোচ গ্রহণ করেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন কিংবা জোরপূর্বক কোনো অর্থ আদায় করার মতো বেআইনি অপচেষ্টা চালান, তবে তার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ করার এক নতুন বার্তা সামনে আনা হয়েছে। রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার তরফে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই সংক্রান্ত বিশেষ প্রচার অভিযান শুরু করা হয়েছে, যা সচেতন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রায়শই অভিযোগ ওঠে যে, বিভিন্ন সরকারি দফতরে সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে গেলেও নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়। কখনো কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে উৎকোচ দাবি করা হয়, আবার কখনো বিভিন্ন প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতিকে চিরতরে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে তৎপর হয়েছে দুর্নীতি দমন শাখা। সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে—দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবেন না, বরং যে কোনো উপায়ে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।

এই বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার পক্ষ থেকে একটি ডেডিকেটেড টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ওই বিশেষ পোস্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাঁর নির্ধারিত পদের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে ঘুষ চান বা অনৈতিক সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করেন, তবে নাগরিকরা যেন বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এই হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। এমনকী শুধু ঘুষ চাওয়া বা নেওয়ার অভিযোগই নয়, প্রশাসনিক স্তরে অন্য যে কোনো ধরনের দুর্নীতি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য থাকলেও তা এই নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রশাসন মনে করছে, এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি মাত্রায় নির্ভয়ে এগিয়ে আসবেন এবং অসাধু সরকারি কর্মচারীদের অবৈধ কাজকর্মের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ গড়ে উঠবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সচেতনতামূলক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে এবং সরকারি দফতরের অন্দরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এই টোল ফ্রি নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের সচেতন করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে দুর্নীতি দমন শাখার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।