বকেয়া DA মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু! শিক্ষক, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীদের জন্য বড় পদক্ষেপ নবান্নের

রাজ্যের বাকি থাকা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া অবশেষে শুরু হয়েছে। নবান্ন সূত্রে মিলেছে এই বিরাট খবর।
বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কর্মচারীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কর্মচারীদের পক্ষেই গিয়েছিল। গত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৎকালীন সরকারের তরফ থেকে বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হলেও, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (গ্রান্ট-ইন-এইড) স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীরা সেই বকেয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও সেই বকেয়া মেলেনি। তবে এবার সেই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়েছে।
অর্থ দপ্তরের জরুরি নির্দেশ ও টেকনিক্যাল প্রস্তুতি
অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর, সরকারি কোষাগার থেকে যাঁরা সরাসরি স্থায়ী বেতন পান না, অথচ অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার সঙ্গে যুক্ত— যেমন সরকার অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধিবদ্ধ বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মীরা— তাঁদের ‘রোপা ২০০৯’ অনুযায়ী দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়াই এখন সরকারের সর্বোচ্চ প্রাধান্য।
বিশেষ নির্দেশ: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধীন আইটি কর্মীদের (যাঁরা বেতন ও প্রশাসনিক পোর্টালে বিল জমা দেন) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট পোর্টালগুলিতে এই মুহূর্তে অন্য কোনো বকেয়া টাকার বিল যাতে জমা না পড়ে।
১৫ দিনের ডেডলাইন: সমস্ত দপ্তরকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র বিল তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থ দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের ভার্চুয়াল বৈঠকেও এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ‘আইওএসএমএস’ (IOSMS)-এর মতো নির্দিষ্ট বেতন-পোর্টালে বিল জমা দেওয়ার আলাদা অপশন প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ হলেই অর্থ দপ্তর থেকে বিল সাবমিট করার পরবর্তী নির্দেশিকা জারি হবে।
নতুন ২০% ডিএ বৃদ্ধি ও অক্টোবরের পেমেন্ট
উল্লেখ্য, এই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়াটি সাম্প্রতিক ‘রোপা ২০১৯’ অনুযায়ী ঘোষিত ২০ শতাংশ ডিএ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ কর্মীদের পুরোনো বকেয়া মেটানোর কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইছে অর্থ দপ্তর।
এদিকে, রোপা ২০১৯ অনুযায়ী ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি মঙ্গলবারই জারি করেছে অর্থ দপ্তর। এর ফলে বর্তমান ১৮ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকারি কর্মীরা মোট ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পেতে চলেছেন, যা এই ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ কর্মীরাও পাবেন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়ে পুজোর মাসেই অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে এই বর্ধিত ডিএ কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।
মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির পক্ষে অনিমেষ হালদার জানিয়েছেন, “গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদের রোপা ২০০৯–এর বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে আমরা জানতে পারছি। তবে আমাদের দাবি, বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার যেন দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে।”