সৈকতে বসে মাছ ভাজা খাওয়ার শখ?—খাদ্যে ভেজাল রুখতে নেমে পড়ল ফুড সেফটি বিভাগ!

সমুদ্রের জোলো হাওয়ায় সিক্ত শরীর ও মন, আর সৈকতের ধারে লাল-লাল, ঝাল-ঝাল পমফ্রেট, তোপসে বা কাঁকড়া ভাজা—মৎস্যপ্রিয় বাঙালির কাছে উইকেন্ড মানেই এই পদের আকর্ষণ আলাদা। ঘড়ি ধরে জিম বা ডায়েট ভুলে এইটুকু ‘চিট’ তো চলতেই পারে। কিন্তু দিঘার সমুদ্রের ধারের স্টল হোক বা মহিষাদলের বিখ্যাত ঘুগনি গলি—এই সমস্ত জায়গায় পচা বা ভেজাল খাবারের রমরমা কি আপনার বড় ক্ষতি করছে না তো? পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবার এই বিষয়েই কড়া পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে প্রশাসন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ও ফুড সেফটির অভিযান
খাবারের গুণমান নিয়ে সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফরে এসে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছেন। হাসপাতালগুলির পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পর্যটনস্থানগুলিতে ‘স্ট্রিট ফুড’-এর মান বজায় রাখার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
এর পরই নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। মহিষাদলের ঘুগনি গলি থেকে শুরু করে দিঘার সমুদ্র সৈকতের স্টলগুলিতে লাগাতার ম্যারাথন অভিযান চালাচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। দোকানগুলিতে গিয়ে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হচ্ছে— খাবারে ভেজাল বা ক্ষতিকর রং মেশানো হলে কিংবা পচা খাবার বিক্রি করলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিক কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে?
ফরমালিন ব্যবহার: মাছ বা সামুদ্রিক খাবার দীর্ঘক্ষণ টাটকা দেখাতে সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন বা অন্য কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা হচ্ছে।
একই তেল বারবার ব্যবহার: ভাজার জন্য একই তেল বারবার ফোটানো হচ্ছে কি না, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবেশ ও লাইসেন্স: খাবার তৈরির পরিবেশ কেমন এবং দোকানদারদের সঠিক লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা দেখে লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ কী কী?
অভিযান চললেও এর নেপথ্যে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও পরিকাঠামো গত সমস্যা রয়ে গিয়েছে:
১. রিপোর্টের দীর্ঘসূত্রিতা: খাবারের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেতে সাধারণত ১৪ দিন সময় লাগার কথা। কিন্তু পুরো রাজ্যে মাত্র তিনটি ল্যাবরেটরি থাকায় রিপোর্ট আসতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়। ২. কর্মী সংকট: ফুড সেফটি অফিসার শ্রাবণী সাহা জানিয়েছেন, বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কয়েক লক্ষ খাবারের দোকান রয়েছে। অথচ গোটা জেলায় মাত্র ৬ জন ফুড সেফটি অফিসার রয়েছেন (যার মধ্যে একজন অসুস্থ)। ৫ জন অফিসার মিলে হাজার হাজার দোকানে নিয়মিত নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন। জরিমানা বা শোকজ নয়, তাঁরা মূলত সচেতনতা বাড়ানোর ওপরই জোর দিচ্ছেন। ৩. ক্রেতা-বিক্রেতার সচেতনতা: সরকারি তদারকির পাশাপাশি ক্রেতাদেরও নোংরা বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতিবাদ করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের মুনাফার লোভে যাতে গোটা ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য বিপদে না পড়ে, সে দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।