এক পলকে মন জুড়োবে! বীরভূমের এই অদ্ভুত সুন্দর পাহাড় ও মন্দিরের জাদুতে মজেছেন পর্যটকেরা!

বর্ষার মরসুম মানেই ভ্রমণপিপাসু বাঙালির মন কেমন করা এক আকুলতা। ছুটির সুযোগ পেলেই এ রাজ্যের অগণিত মানুষ ছুটে যান বোলপুর-শান্তিনিকেতন কিংবা তারাপীঠের বিখ্যাত মা তারার মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এই অতি পরিচিত ও জনবহুল পর্যটন কেন্দ্রগুলির বাইরেও বাংলার বুকে এমন একটি অপরূপ ও রহস্যময় জায়গা লুকিয়ে রয়েছে, যা এক পলকে যে কোনো ভ্রমণপ্রেমীর মন কেড়ে নিতে বাধ্য। বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে অবস্থিত বিখ্যাত মামা ভাগ্নে পাহাড় এবং প্রাচীন পাহাড়েশ্বর শিব মন্দির হলো বর্তমান বর্ষার দিনে ঘুরে আসার জন্য এক আদর্শ ও আকর্ষণীয় ঠিকানা। গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলের রুক্ষ প্রকৃতি চরম রূপ নিলেও, শ্রাবণের স্নিগ্ধ বৃষ্টিতে ভিজে এই পাহাড়ি এলাকা এক মনোরম ও শান্তির রূপ ধারণ করে। বর্ষার কদম ছাঁটা আবহাওয়ায় এখানকার বাতাস যেন এক অদ্ভুত ও মুগ্ধ করা সুবাসে ভরে ওঠে।
শ্রাবণের পবিত্র সোমবারে পুণ্য অর্জনের পথ ধরে বীরভূমে পৌঁছলে এই শিবমন্দিরটি আপনার সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেবে। মন্দিরটির স্থাপত্য অত্যন্ত বিশাল ও সুউচ্চ, যার বাইরের জটিল নকশাকৃত কারুকার্য সত্যিই একেবারে অসাধারণ। মন্দিরের মূল ফটকের দুই পাশে ছোট প্রদীপের নকশা দিয়ে ঘেরা দুটি ঘণ্টার মতো সুদৃশ্য নকশা খোদাই করা রয়েছে, যা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেবাদিদেব মহাদেবের তৃতীয় নয়নকে ফুটিয়ে তোলে। মন্দিরের এই সুন্দর ফটকের ঠিক ওপরের অংশে বিঘ্নহর্তা ভগবান গণেশকে সযত্নে স্থাপন করা হয়েছে। সনাতনী হিন্দু পুরাণ অনুসারে ভগবান গণেশকে যেহেতু সমস্ত কাজের সিদ্ধিদাতা হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই শ্রাবণের চতুর্থ অথবা পঞ্চম সোমবারে বীরভূম ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে দুবরাজপুরের এই ঐতিহাসিক শিবমন্দির দর্শন করা অত্যন্ত পুণ্যময় ও ফলদায়ক। মন্দির দর্শন সেরে আপনি অনায়াসেই ঘুরে দেখতে পারেন বিখ্যাত মামা ভাগ্নে পাহাড়, যা মূলত প্রাচীন ছোটনাগপুর মালভূমিরই একটি বর্ধিত ও মনোরম অংশ। এখানে বিশাল আকৃতির বিশাল সব পাথর কোনো রকম কৃত্রিম সাহায্য ছাড়াই নিপুণভাবে একে অপরের ওপর নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখে এক অনন্য প্রাকৃতিক ভূমিরূপ সৃষ্টি করেছে।
বীরভূমের এই সুন্দর পর্যটন কেন্দ্রে পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক। বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়ি থেকে যেকোনো গাড়ি বা ক্যাব ভাড়া করে আপনি খুব সহজেই সরাসরি দুবরাজপুরে পৌঁছে যেতে পারবেন। সিউড়ি থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি। যাতায়াতের সময় পথের দুপাশে দেখতে পাবেন এক সুবিশাল ও ঐতিহাসিক লাল রঙের তোরণ, যা আপনাকে রাজকীয়ভাবে স্বাগত জানাবে। এই বিশাল ঐতিহাসিক ফটকটি পেরিয়েই আপনার চোখে পড়বে বিখ্যাত ও প্রাচীন হেতমপুর রাজবাড়ি। বাংলার এক্কেবারে প্রত্যন্ত প্রান্তে হঠাৎ করে পথের মাঝে এমন এক সুবিশাল ও প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন দেখলে যেকোনো পর্যটক বিস্মিত হতে বাধ্য। এই রাজবাড়ির বিশাল ফটকের ওপরে ছড়ানো রয়েছে অবহেলায় বেড়ে ওঠা ছোট ছোট আগাছা, আর তার ঠিক ওপরে পাথরের তৈরি অপূর্ব সুন্দর সব ছোট পরী খোদাই করা রয়েছে। রাজবাড়ির প্রতিটি কোণায় কোণায় এখনও স্পষ্টভাবে ফুটে রয়েছে বনেদিয়ানার এক প্রাচীন আভিজাত্য। তোরণের গায়ে লাগানো ঐতিহাসিক ফলকটি অতীতের অনেক অজানা ইতিহাসের গল্প বলে দেয়। সুতরাং, আসন্ন ছুটির দিনে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও ছোট ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে বীরভূম ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে, দুবরাজপুর মামা ভাগ্নে পাহাড় ও পাহাড়েশ্বর শিবমন্দির আপনার ভ্রমণ তালিকার এক নম্বর ডেস্টিনেশন হওয়া উচিত।