সমর্থন করলেই মিলবে সমস্যার সমাধান? জর্ডন ফুটবল প্রধানের বিস্ফোরক দাবিতে কেঁপে উঠল ফিফা সদর দফতর

ফুটবল প্রশাসন মহলে এক অভূতপূর্ব চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম হয়েছে। ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্ল্যাকমেল করার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ আনলেন জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আলি বিন আল হুসেইন। তাঁর সুনির্দিষ্ট দাবি, ফিফা সভাপতি পদ নির্বাচনে ইনফ্যান্তিনোকে নিঃশর্ত সমর্থন জানালেই কেবল জর্ডনের ফুটবল-সংক্রান্ত বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার অশুভ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একটি জোরালো পোস্ট শেয়ার করে ফিফা প্রেসিডেন্টের এই তীব্র অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান।
নিজের বক্তব্যে আলী বিন আল হুসেইন ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান যে, সদ্যসমাপ্ত ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে তিনি যদি ইনফ্যান্তিনোকে সমর্থন করেন, তবেই তাঁদের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নানাবিধ আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট নিরসনে ফিফা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। জর্ডন সব সময় নৈতিক মূল্যবোধ ও সততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, অতীতে যেমন তিনি ইনফ্যান্তিনোকে সমর্থন জানাননি, বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি এই অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।
জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের আরও অভিযোগ, জর্ডনের ফুটবল বিকাশের স্বার্থে এবং নানা জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য বহুবার ফিফার কাছে আকুতি জানানো হলেও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা সেই আর্জি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। বরং ঠিক বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর সামনে এক প্রকার রাজনৈতিক শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। আল হুসেইনের দাবি অনুযায়ী, জর্ডনের বহু উৎসাহী ফুটবলপ্রেমী আসন্ন বিশ্বকাপ ম্যাচগুলোর জন্য আগাম টিকিট কেটেছিলেন, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ার কারণে তাঁরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হতে পারেননি। অন্যদিকে, যাঁরা কোনো রকমে ভিসা পেয়ে আমেরিকা যেতে পেরেছিলেন, তাঁদের অত্যন্ত চড়া মূল্যে টিকিট কিনতে হয়েছে।
আল হুসেইনের তীব্র আক্রমণ করে বলেন যে, ফিফার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার জর্ডনের ফুটবল অনুরাগীদের কাছ থেকে একপ্রকার অতিরিক্ত কর আদায় করেছে। অথচ এই সমস্ত অর্থ সরাসরি খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের কল্যাণে ও উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। শুধু তাই নয়, গত ২০২৫ সালে কাতারে অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া আরব কাপের ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও জর্ডন জাতীয় দলের প্রাপ্য আর্থিক পুরস্কার বা অনুদান এখনও পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। অথচ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে ফিফা বুক ফুলিয়ে দাবি করে যে তাদের আর্থিক রিজার্ভে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল পুঁজি মজুত রয়েছে।
এদিকে সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপ আসর শেষ হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর নেতৃত্ব ও কার্যপ্রণালী নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং কনফেডারেশনগুলো এখন ফিফা প্রেসিডেন্টের একরোখা নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছে। জানা গেছে, আগামী বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ও সম্প্রচার স্বত্ব কোনো এক প্রভাবশালী বেসরকারি বিনিয়োগকারী সংস্থার কাছে গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফ্যান্তিনো। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের বহু সদস্য দেশ এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তোলায় শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কিত প্রস্তাব বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা। ফলস্বরূপ, আসন্ন ২০২৭ সালের ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ইনফ্যান্তিনোর একচ্ছত্র নেতৃত্ব এবং বর্তমান ফিফা শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্ব ফুটবল মহলে তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে।