হাতে জেলি ভরা গোল গোল মাংসপিণ্ড দেখলেই আঁতকে ওঠেন? ক্যানসার ভেবে ভুল করছেন না তো!

কব্জি বা আঙুলের চামড়ার নিচে হঠাৎ করে ছোট মাংসপিণ্ড বা ফোলা অংশ দেখলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। টিপলে যখন মনে হয় ভেতরে থকথকে জেলি ভরা রয়েছে, তখন অনেকেরই মনে ক্যানসার বা মারাত্মক কোনো টিউমার বাসা বাঁধার ভীতি কাজ করে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ফোলা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি কোনো মারণ রোগ বা ক্যানসার নয়, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সাইনোভিয়াল সিস্ট (Synovial Finger Cyst)। মূলত হাত ও আঙুলের জয়েন্ট বা জোড়গুলো সহজে এবং মসৃণভাবে নাড়াচাড়া করার জন্য ভেতরে একধরনের পিচ্ছিল তরল থাকে, যা সাইনোভিয়াল ফ্লুইড নামে পরিচিত। এই তরলটি অনেকটা সাইকেলের চেইনে দেওয়া গ্রিজের মতো কাজ করে, যার ফলে এক হাড়ের সঙ্গে অন্য হাড়ের ঘষা লাগে না। কিন্তু কোনো কারণে এই তরল যদি থলির মতো এক জায়গায় জমতে শুরু করে, তখনই তা চামড়ার নিচে ফুলে ওঠে এবং সিস্টের রূপ নেয়।
এই ধরনের সিস্ট তৈরি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। অতীতে আঙুল বা কব্জিতে কখনো ছোটখাটো আঘাত লেগে থাকলে এবং তা সঠিকভাবে না সারলে এমন সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া একই জায়গায় বারবার চাপ পড়া কিংবা জয়েন্টের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ভেতর থেকে তরল বেরিয়ে এই থলি বা সিস্ট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। সাধারণত এই সিস্টগুলো আঙুল, কব্জি বা কনুইয়ের সংযোগস্থলে বেশি দেখা যায়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটি হাঁটু কিংবা গোড়ালিতেও হতে পারে। দেখতে অনেকটা ছোট মার্বেল গুটির মতো এই সিস্টগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ক্ষতিকর নয়। ফলে সাধারণ অবস্থায় এতে কোনো ধরনের ইনফেকশন বা সংক্রমণ না হলে কোনো ধরনের ওষুধ সেবনেরও প্রয়োজন পড়ে না।
তবে চিকিৎসকদের মতে, এই বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকা উচিত নয়। সিস্টটি যদি আকারে অনেক বেশি বড় হয়ে যায়, আঙুল বা কব্জি নাড়াচাড়া করতে সমস্যা সৃষ্টি করে, কিংবা লাল হয়ে ফুলে ফেটে রক্ত বা পুঁজ বের হতে শুরু করে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। অনেক সময় এই ধরনের সিস্ট বাত বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও প্রকাশ পেতে পারে। তাই অহেতুক ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে ছোট্ট একটি অস্ত্রোপচার বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। স্বাস্থ্য সচেতনতাই পারে যেকোনো বড় জটিলতা থেকে দূরে রাখতে।