মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে নজরদারির ছক? পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কের বড় নাশকতার প্ল্যান ফাঁস

প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে দেশে বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর ছক কষছিল পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী? পশ্চিমবঙ্গ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF-এর সাম্প্রতিক তদন্তে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত সন্দেহভাজন জঙ্গি মহম্মদ হামিম মণ্ডল নিউ টাউনের চিনার পার্ক এলাকায় উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা ভিভিআইপি কনভয় রুট এবং বাসভবনের ওপর নজরদারি বা রেইকি চালিয়েছিল।

ভাড়া করা গাড়িতে চালাত নজরদারি

তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত সুকৌশলে ও ক্যামেরার নজর এড়িয়ে এই নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল। হামিম একটি ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করে সরাসরি নিউ টাউন ও চিনার পার্ক সংলগ্ন ভিভিআইপি এলাকায় পৌঁছে যায়। সেখানে সে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার কনভয় রুট এবং লজিস্টিক সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার জালে যাতে কোনোভাবেই ধরা না পড়ে, তার জন্য সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এলাকার ‘ব্লাইন্ড স্পট’গুলিকে (যে সমস্ত জায়গায় ক্যামেরার নজর পৌঁছায় না) ব্যবহার করেছিল। এমনকি, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সে ঘটনাস্থলে কোনো ধরনের ছবি বা ভিডিও তোলা থেকে বিরত থেকেছিল।

পাক হ্যান্ডলারদের নির্দেশ ও দিল্লির যোগ

রাজ্য এসটিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে এর আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, ধৃত হামিম সরাসরি পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে কাজ করত। রাজ্য স্তরের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করার পাশাপাশি, রাজধানীর যন্তর মন্তরে কোনো প্রতিবাদ আন্দোলন চলাকালীন সেখানে বড়সড় গোলমাল বা নাশকতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনাও তাদের ছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

বর্তমানে হামিম মণ্ডল ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটানা জেরা করে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি জাল এবং সীমান্তপারের এই গভীর ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন এসটিএফ-এর অভিজ্ঞ আধিকারিকরা।