বর্ষায় কি ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ায় কাবু হচ্ছেন? এই ছোট অভ্যাস বদলেই দূরে থাকুন মারণ রোগ থেকে!

ঝলমলে গরমের তীব্রতা কাটিয়ে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করেছে বর্ষাকাল। ঋতু পরিবর্তনের এই মিষ্টি আমেজ যেমন মন জুড়িয়ে দেয়, তেমনই অন্যদিকে এই স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং মশার বংশবৃদ্ধির জন্য একেবারে আদর্শ সময় হয়ে ওঠে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা জল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং দূষিত পানীয় জলের কারণে বর্ষার মরশুমে নানা মারণ রোগের প্রকোপ অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায়। তবে কিছু সাধারণ বিষয়ে সচেতনতা এবং কয়েকটি ছোট অথচ কড়া সতর্কতা অবলম্বন করলে, যেকোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছাড়াই আপনি সপরিবারে এই বর্ষার মরশুম উপভোগ করতে পারবেন।
বর্ষাকালে স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে মশা বাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়া। বাড়ির ঘরের কোণে রাখা কুলার, ফুলের টব, বালতি বা বাড়ির ছাদে জমে থাকা পরিষ্কার জলই এই ডেঙ্গির মশার প্রধান আঁতুড়ঘর। এই বিপদ এড়াতে বাড়ির আশপাশে কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না এবং নিয়মিত তা পরিষ্কার করতে হবে। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন এবং সন্ধের সময় ফুল-হাতা জামা বা শরীর ঢাকা পোশাক পরুন। এছাড়া বৃষ্টির দিনে জল দূষিত হয়ে পড়ায় টাইফয়েড, কলেরা এবং ডায়েরিয়ার মতো মারাত্মক জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অস্বাস্থ্যকর খাবার বা কাঁচা জল খাওয়ার ফলে পেটের গোলযোগ শুরু হতে পারে। তাই সবসময় জল ফুটিয়ে বা ভালো পিউরিফায়ার ব্যবহার করে পান করুন। ফলমূল বা শাকসবজি খাওয়ার আগে তা পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। বৃষ্টির দিনে রাস্তার খোলা খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন এবং খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুতে ভুলবেন না।
আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়, যার ফলে খুব সহজেই সর্দি, কাশি ও ভাইরাল জ্বরের মতো ইনফ্লুয়েঞ্জার আক্রমণ ঘটে। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত বাড়ি ফিরে ভালো করে গা মুছুন এবং শরীর শুকনো পোশাক দিয়ে ঢেকে নিন। ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টিগুণে ভরপুর সুষম খাবার খান এবং শরীর সবসময় হাইড্রেটেড রাখুন। পাশাপাশি, একটানা ভেজা ভাব ও ঘাম জমার কারণে চর্মরোগ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সমস্যাও ঘরে ঘরে দেখা দেয়। নিজের ব্যবহারের তোয়ালে বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী সবসময় আলাদা রাখুন এবং স্নানের পর ত্বক পুরোপুরি শুকনো রাখুন। সামান্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে দিনেও সুস্থ থাকা সম্ভব।