শ্রীনগরে মোমবাতি মিছিল ঘিরে ধুন্ধুমার! জম্মু ও কাশ্মীরে রাজনৈতিক দলগুলির বিক্ষোভের মুখে জারি কড়া নিষেধাজ্ঞা

জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের সপ্তম বার্ষিকীর দিনটিতে উপত্যকায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিল পুলিশ প্রশাসন। বুধবারের এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়া সমস্ত রকম বিক্ষোভ, সমাবেশ, মিছিল বা জনসভা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। বিভিন্ন জেলার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই সরকারি নির্দেশ বা নিয়ম অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDP)-র পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণার পরই মূলত এই বেনজির কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উপত্যকার সার্বিক শান্তি, শৃঙ্খলা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা অটুট রাখার স্বার্থেই এই ব্যাপক নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা অঞ্চল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করা, শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা এবং কোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে অবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় খবর দেওয়ার জন্য সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও বিশেষ আর্জি জানানো হয়েছে।

এদিকে, ৩৭০ ধারা বাতিলের এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC), পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDP) এবং জেঅ্যান্ডকে আপনি পার্টির মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের জোরালো ঘোষণা করেছিল। এই কর্মসূচির প্রাক্কালে মঙ্গলবার গভীর রাতে পিডিপি সভানেত্রী তথা জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি শ্রীনগর শহরের কেন্দ্রের দিকে একটি প্রতিবাদী মোমবাতি মিছিল বের করার চেষ্টা চালান। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশি বাধায় সেই মিছিল এগোতে পারেনি। বাধ্য হয়ে তিনি দলীয় কার্যালয়ের বাইরেই প্রকাশ্য অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে মেহবুবা মুফতি বলেন, “আজ জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এক অত্যন্ত অন্ধকার রাত। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের কাছ থেকে ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের এই সাংবিধানিক অধিকারগুলি পাকিস্তান বা চিন আমাদের দেয়নি, বরং ভারতের সংবিধানই আমাদের এই বিশেষ অধিকার প্রদান করেছিল।” অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের মুখপাত্র ইমরান নবি দার জানিয়েছেন যে, শ্রীনগরে দলের ‘নওয়াই সুবাহ’ প্রধান সদর দপ্তর থেকেও একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করার পূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে। রাজনৈতিক দলের এই কর্মসূচি এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বর্তমানে গোটা উপত্যকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।