ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার বিরাট পরিকল্পনা! পাঞ্জাব পুলিশের জালে ৪ নাবালকসহ ৯ আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি

দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হামলার একটি সুপরিকল্পিত ছক বানচাল করে দিল পাঞ্জাব পুলিশ। আইএসআই (ISI)-সমর্থিত দুটি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিয়ে চারজন নাবালকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি পেট্রল বোমা এবং ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান-ভিত্তিক আইএসআই হ্যান্ডলাররা স্থানীয় তরুণদের ভুল পথে চালিত করে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করার চেষ্টা করছিল। এই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রকদের অন্যতম হিসেবে পাকিস্তানভিত্তিক গ্যাংস্টার ও জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির নাম উঠে এসেছে।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যে, ধৃতদের অন্যতম সুখমন সিং পাকিস্তানের আইএসআই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে হওয়া সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যন্তরমন্তরে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষেছিল এই চক্র। সেই উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা দিল্লিতেও গিয়েছিল, কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার বেড়াজালের কারণে তারা সফল হতে পারেনি। পরবর্তীতে উত্তরপ্রদেশের এক সহযোগীর কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করার পরিকল্পনা থাকলেও পুলিশের তৎপরতা ও কড়া নজরদারির মুখে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং তারা বাধ্য হয়ে পাঞ্জাবে ফিরে আসে। এছাড়া, পাঞ্জাবের বিভিন্ন পুলিশ ভবন এবং পুলিশকর্মীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার গুরুদায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল এই চক্রের ওপর।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সূত্র ধরে দ্বিতীয় জঙ্গি মডিউলের সন্ধান পায় পুলিশ। রেললাইনের ধারে বেশ কিছু সন্দেহজনক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের হদিশ মেলে। গত মাসে কয়েকটি রেললাইনের কাছ থেকে ওই ক্যামেরাগুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে সংগৃহীত লাইভ ফুটেজ সরাসরি বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করা হচ্ছিল। এই কাজে অর্থ লেনদেনের জন্য ডিজিটাল মাধ্যম পেটিএম ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে অমৃতসর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে আগে থেকেই বন্দি সুখদেব সিং এবং তার সহবন্দি হরমন সিংকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে নতুন করে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃতদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের তালিকায় রয়েছেন তরনতারনের ভানশ কুমার ও অনমোল সিং ওরফে সাহিল, অমৃতসরের হরমন সিং ও সুখদেব সিং এবং সুখমন সিং। এর পাশাপাশি চারজন নাবালককেও আটক করা হয়েছে। অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লর জানান যে, সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ভানশ কুমার এবং এক নাবালক সহযোগীকে প্রথমে পাকড়াও করা হয়, যাদের কাছ থেকে একটি অবৈধ ৩২ বোর দেশি পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। কলকাতা এসটিএফ এর আগেও যন্তর মন্তরে নাশকতার পরিকল্পনার কথা সামনে এনেছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং আন্তর্জাতিক নম্বরের যোগসূত্র ধরে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা বের করতে এখন যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।