“সংখ্যালঘু-বিরোধী বিলে সমর্থন করব না!” বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বড় বার্তা দুই সাংসদের

দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায় ফের একবার চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এনডিএ (NDA)-র সঙ্গে কোনো রকম জোটে নেই এবং তাঁরা যে নিজেদের স্বাধীন অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছেন, তা অত্যন্ত জোরালো ভাষায় জানিয়ে দিলেন এনসিপিআই (NCPI)-এর দুই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানী দিল্লিতে এনডিএ-র হাই-প্রোফাইল বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবেই অনুপস্থিত ছিলেন এই দুই সাংসদ। কেন তাঁরা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বয়কট করলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তাঁরা।
মঙ্গলবার সকালেই সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয় এনডিএ-র সমন্বয় বৈঠক। সেই বৈঠকে শাসক শিবিরের প্রথম সারিতেই উপস্থিত ছিলেন এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটরা। গত সপ্তাহের বৈঠকেও মোদি-শাহ-রাজনাথ সিংদের ঠিক পাশেই দেখা গিয়েছিল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কিন্তু এত কিছুর পরেও ঠিক কী কারণে বৈঠকে এলেন না আবু তাহের ও খলিলুর রহমান? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে গিয়ে সাংসদ আবু তাহের স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “আমরা এনডিএ-র সঙ্গে নেই।”
শুধু বৈঠকে অনুপস্থিত থাকাই নয়, আগামী দিনে সংসদের যেকোনো ভোটাভুটিতে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, সেই নিয়েও মুখ খুলেছেন এই দুই সাংসদ। আবু তাহের সাফ জানিয়েছেন, “বাংলার সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গেই আমরা নেই। বিশেষ করে সংসদে যদি সংখ্যালঘু বা জনবিরোধী কোনো বিল আনা হয়, তবে আমরা কোনোভাবেই তার সমর্থন করব না। বরং সেই বিলের তীব্র বিরোধিতা করব, যা আমরা বাংলার আপামর জনসাধারণকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই।”
এদিকে এই রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝেই আজ দিল্লি রওনা হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, দিল্লির ওই বিশেষ বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সাংসদ দেব ছাড়া এই বৈঠকে এনসিপিআই-এর প্রায় সব সাংসদই উপস্থিত থাকবেন। মূলত নিজ নিজ এলাকার অমীমাংসিত সমস্যা, উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান এবং এলাকার ঘরছাড়া দলীয় কর্মীদের বঞ্চনার অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন সাংসদরা। এই বৈঠক প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের জানান, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের উন্নয়নের স্বার্থেই বৈঠকে ডেকেছেন, তাই আমরা সেই বৈঠকে অবশ্যই যোগ দেব।”
উল্লেখ্য, এই বৈঠকের আগেই চলতি সপ্তাহে দিল্লি এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করেছেন দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যার সেই বৈঠকে উভয়ের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ দীর্ঘ আলোচনা হয়। যেখানে এনসিপিআই-এর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ চলা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ উঠে আসে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী শিবিরের কাজের প্রশংসাও করতে দেখা যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সবমিলিয়ে, একদিকে এনডিএ বৈঠকে অনুপস্থিতি এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের এই দুই মেরুর রাজনীতিতে দিল্লির আবহাওয়া এখন সম্পূর্ণ উত্তপ্ত।