দক্ষিণী অভিনেত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য! বাড়িতে হানা দিয়ে ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে আটক করল পুলিশ

দক্ষিণী জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে একটি জনসভায় আপত্তিকর মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগে মঙ্গলবার সকালেই ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে তাঁর চেন্নাইয়ের নীলাঙ্কারাই বাসভবন থেকে আটক করেছে তামিলনাড়ু পুলিশ। জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ুর শাসক দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ সরকারের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক জনসভা থেকেই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। গত সোমবার তাঞ্জাভুরের পানাগাল ভবনের কাছে ওই জনসভার আয়োজন করেছিল ডিএমকে। মূলত কাবেরী নদীর জল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত জল আদায়ের ক্ষেত্রে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন বলে অভিযোগ তুলে এই সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল।
এ দিন সকালে পুলিশ বাহিনী উদয়নিধিকে আটক করতে তাঁর বাসভবনের দিকে যাওয়ার আগেই গোটা এলাকা পুলিশে পুলিশে ঢেকে ফেলা হয়। বাড়ি ঘিরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। মূলত ডিএমকে কর্মী ও সমর্থকরা বিরোধী দলনেতার বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে পারেন এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে, এই গভীর আশঙ্কার কারণেই আগেভাগেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছিল প্রশাসন।
এদিকে, পুলিশ উদয়নিধি স্ট্যালিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ঠিক পরপরই তাঁর আইনি দল নড়েচড়ে বসে। তাঁর আইনজীবী অবিলম্বে মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তামিলনাড়ু বিধানসভার বিরোধী দলনেতার গ্রেফতারি এড়াতে এবং আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার জন্য বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই মুহূর্তে উদয়নিধিকে সরাসরি গ্রেপ্তার না করা হলেও, সোমবারের সেই জনসভায় তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য ও মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক উদয়নিধি স্ট্যালিনের স্ত্রী কিরুথিগা উদয়নিধির সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাঁকে পুরো বিষয়টি বোঝাচ্ছেন। পুলিশ ওই আধিকারিক কিরুথিগাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে তাঁরা শুধুমাত্র অর্পিত আইনি দায়িত্ব পালন করতেই সেখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাই কর্তব্যে বিন্দুমাত্র গাফিলতি করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, ডিএমকে কর্মী ও সমর্থকদের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছে যে, পুলিশ যখন দরজা কড়া নাড়ছে, তখন জানানো হয় উদয়নিধি সেই মুহূর্তে শৌচালয়ে রয়েছেন এবং তাঁর কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। ওই একই কথা বলতে শোনা যায় ডিএমকে-র প্রাক্তন মন্ত্রী এমএ সুব্রহ্মণ্যকেও। সব মিলিয়ে এই হাই-প্রোফাইল আটক ও রাজনৈতিক ডামাডোলে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণের রাজনীতি।