সিআরপিএফ ক্যাম্পে সহকর্মীদের রক্তে ভাসাল জওয়ান! আসামের নগাঁওয়ে মর্মান্তিক গুলিকাণ্ডে কাঁপল গোটা চত্বর

আসামের নগাঁও জেলা থেকে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার সকালে একটি সিআরপিএফ ক্যাম্পে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গুলিকাণ্ডে দুই সহকর্মী সহ মোট তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই আকস্মিক ও রক্তক্ষয়ী ঘটনায় গোটা নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ক্যাম্পের ভেতরকার আকস্মিক উত্তেজনায় এই বীভৎস কাণ্ড ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, মঙ্গলবার সকাল ঠিক সাতটা নাগাদ আসামের নগাঁও জেলার কাটিমারি এলাকায় অবস্থিত সিআরপিএফ-এর ৩৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় ক্যাম্পের মূল প্রবেশদ্বারের প্রধান ফটকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল পজিশনে কর্তব্যরত ছিলেন এএসআই জিডি বল্লানি প্রেমাবরম। হঠাৎ করেই কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তিনি নিজের সার্ভিস রাইফেল উঁচিয়ে তাঁরই সহকর্মী জওয়ানদের লক্ষ্য করে একের পর এক এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। এই হঠাৎ হামলায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন দুই জওয়ান।
নগাঁওয়ের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (সদর) পারমিতা সরকার সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, নিজের সহকর্মীদের নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার ঠিক পরেই ওই অভিযুক্ত এএসআই নিজের বিরুদ্ধেও অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং নিজেকে গুলি করে শেষ করে দেন। গুলিতে ঘটনাস্থলেই ওই জওয়ানের করুণ মৃত্যু হয়। হামলায় নিহত দুই জওয়ানের নাম এইচভি জিডি বিষ্ণু প্রসাদ বাঘেল এবং এসআই জিডি রামনাওয়াল সিং যাদব বলে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা দুজনেই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এই অতর্কিত ও হিংসাত্মক হামলায় কেবল তাঁরাই নন, বরং এএসআই মিনিস্টেরিয়াল গোবিন্দ শ্রীপুল নামক সিআরপিএফ-এর আরও এক কর্মী গুরুতরভাবে জখম হন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত একটি স্থানীয় উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স বা সিআরপিএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এবং স্থানীয় জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখে এই ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পেছনের মূল কারণ কী ছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।