ফের তীব্র আইনি বিপাকে সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপক! অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি নিয়ে সোজা দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ কনটেন্ট ক্রিয়েটর!

নয়া আইনি জটে জড়িয়ে পড়লেন সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপক। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করার জোরালো দাবি জানিয়ে এবার সরাসরি দিল্লি পুলিশের এক ডিসিপির (DCP) দ্বারস্থ হলেন ফাইজান আনসারি নামে এক পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ফাইজানের অভিযোগ, পুনে এবং ঔরঙ্গাবাদে তাঁর উপর যে ধারাবাহিক শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার পেছনে সরাসরি হাত রয়েছে অভিজিৎ দীপকের উগ্র অনুগামীদের। এই মর্মে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দুটি জায়গায় পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক কালে যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে যেভাবে সোনম ওয়াংচুককে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই প্রশমনমূলক পদক্ষেপের জন্য দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার ভূয়সী প্রশংসাও করতে দেখা যায় আনসারিকে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ফাইজান আনসারি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় দাবি করেছেন, “আমার হাতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে অভিজিৎ দীপকের অনুগামীরাই সুপরিকল্পিতভাবে আমার উপর হামলা চালিয়েছে। পুনের পাশাপাশি ঔরঙ্গাবাদেও আমায় নিগৃহীত হতে হয়েছে, যার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে দুটি জায়গাতেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।” তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, সিজেপির নাম ব্যবহার করে দেশজুড়ে যে প্রতিবাদ বা আন্দোলন সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে, তার মাধ্যমে সাধারণ ছাত্রসমাজের বিন্দুমাত্র কোনো উপকার হচ্ছে না। আনসারির মতে, অভিজিৎ দীপক এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা অভিজিৎ দীপকের ক্ষেত্রে এবারই প্রথম নয়। এর আগে সুরাতের এক বাসিন্দা অমিত তিওয়ারি তাঁর আইনি অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তথ্যের অধিকার বা আরটিআই (RTI) আইনের মাধ্যমে অমিত জানতে চেয়েছিলেন যে, অভিজিতের বাবা ভগবতরাও দীপক কীভাবে তাঁর ছেলেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ব্যয়বহুল দেশে পড়াশোনা করার জন্য পাঠিয়েছিলেন এবং সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে জোগাড় হয়েছিল? সেই সময়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দীপক দাবি করেছিলেন যে তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পূর্ণ বৃত্তি বা স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে একটি শিক্ষাঋণও নিয়েছিলেন, যার পুরো টাকা এখনও সম্পূর্ণরূপে শোধ করা হয়নি।
এর কিছুকাল আগে নিজের অফিসিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে পোস্ট করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন দীপক। দিল্লিতে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র আন্দোলনের তুলনা টেনে তসলিমা নাসরিন মন্তব্য করেছিলেন যে, দিল্লির এই আন্দোলন তাঁর কাছে বাংলাদেশের আন্দোলনের কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এবং এই ধরনের ছাত্র আন্দোলন সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। এর পাল্টা জবাবে অভিজিৎ দীপকের দাবি ছিল, দিল্লির শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনকে জেনেশুনে কলঙ্কিত ও বদনাম করার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশ ও নেপালের হিংসাত্মক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে আনা হচ্ছে। সবমিলিয়ে একের পর এক আইনি প্যাঁচ এবং বহুমুখী বিতর্কে এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন সিজেপির প্রধান।