বৃষ্টি আসতেই কি হজমের বারোটা বাজছে? গ্যাস, বদহজম ও ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে এখনই মেনে চলুন এই ৫টি দারুণ টিপস!

গরমের তীব্র দাবদাহ থেকে স্বস্তি নিয়ে বঙ্গে বা সারা দেশে বর্ষার আগমন ঘটলেও, এই আর্দ্র ঋতুটি আমাদের শরীরের জন্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে হাজির হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে হজমের নানা সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি, বদহজম, পেটে ইনফেকশন, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো অস্বস্তিকর সমস্যায় এই সময়ে কমবেশি অনেকেই ভুগে থাকেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন বর্ষার দিনে এই ধরনের পেটের গোলযোগ হঠাৎ করে এত বৃদ্ধি পায় এবং এর থেকে চিরতরে রক্ষা পাওয়ার উপায়ই বা কী? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক এই ঋতু পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ এবং প্রতিকারের কার্যকরী উপায়গুলি।
প্রথমত, বর্ষাকালে বাতাসের আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার ঘনঘন ওঠানামার কারণে পরিবেশ অত্যন্ত স্যাঁতসেঁতে হয়ে ওঠে। এই ধরনের আর্দ্র ও উষ্ণ আবহাওয়া বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং নানা ধরনের পরজীবীর বংশবৃদ্ধির জন্য একদম আদর্শ। ফলে খাবার ও পানীয় জল খুব সহজেই দূষিত হয়ে পড়ে, যা পেটের মারাত্মক সব সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টি মানেই বাঙালি বা খাদ্যরসিক মাত্রই বিকালের স্ন্যাক্সে ভাজাভুজি, গরম চপ, সিঙাড়া বা বাইরের খোলা রাস্তার মুখরোচক খাবার। এই ধরনের অতিরিক্ত তেল ও মশলাযুক্ত খাবার আমাদের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার ওপর ভীষণভাবে চাপ সৃষ্টি করে। তাছাড়া, বর্ষার স্যাঁতসেঁতে বাতাসে আমাদের শরীরের ভেতরের অগ্ন্যাশয় ও পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা কিছুটা ধীর হয়ে যায়, যার ফলে খাওয়ার পর পেট ভারী লাগা বা গ্যাস জমার মতো সমস্যা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়।
তৃতীয়ত, একটানা বৃষ্টির কারণে বাইরে গিয়ে হাঁটাচলা বা নিয়মিত শরীরচর্চা করার সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ঘটলে আমাদের পরিপাক ক্রিয়া শ্লথ হয়ে পড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে ফুড পয়জনিং এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো মারাত্মক পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য দৈনন্দিন জীবনে কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
হজমশক্তি ঠিক রাখতে এবং পেট সুস্থ রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। সবসময় টাটকা রান্না করা গরম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন এবং বাইরে অনেকক্ষণ ধরে খোলা জায়গায় রেখে দেওয়া বা ঠান্ডা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার আগে সবসময় ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং কাঁচা স্যালাড খাওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখুন। বর্ষার দিনে পেটের বেশিরভাগ ইনফেকশনের মূল কারণ হলো দূষিত জল, তাই সর্বদা ভালো করে জল ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করুন। রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে বিক্রি হওয়া চটজলদি খাবার বা শরবত ও জুস খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন, কারণ এগুলির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে সবসময় সন্দেহ থেকেই যায়।
খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে এই সমস্যাগুলি সহজেই দূরে রাখা সম্ভব। আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সহজপাচ্য ভাত, মুসুর ডাল, টক দই, পুষ্টিকর ভেজিটেবল স্যুপ এবং ভালো করে ধোয়া তাজা ফলমূল রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবারযুক্ত খাবার, সারাদিন ধরে পরিমিত জল এবং প্রোবায়োটিকস জাতীয় খাবার যেমন টক দই অন্ত্রের বা গুটের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে। অতিরিক্ত তেল, কড়া মশলা, ফাস্টফুড এবং সমস্ত ধরনের প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। একবারে পেট পুরে অনেকখানি না খেয়ে, সারাদিন ধরে অল্প পরিমাণে বারে বারে খাবার গ্রহণ করলে তা আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি সহজ ও সাবলীল করে তোলে। একটু সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই আপনাকে বর্ষার দিনেও রাখবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও চনমনে।