দুর্নীতি দমন শাখায় এক লাফে এল নতুন তিন আইপিএস মুখ! কাদের কাঁধে তুলে দেওয়া হল এই মেগাসিড দায়িত্ব?

রাজ্য জুড়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও এক ধাপ কঠোর পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। অপরাধ দমন এবং প্রশাসনিক নজরদারিকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলতে রাজ্য পুলিশের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি দমন শাখা বা অ্যান্টি-করপশন ব্রাঞ্চে (ACB) বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। প্রশাসনিক কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই বিশেষ শাখায় একযোগে তিনজন অভিজ্ঞ এবং দক্ষ আইপিএস (IPS) অফিসারকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের এই বিশেষ শাখাকে আরও গতিশীল করতে এবং দুর্নীতির শিকড় একেবারে উচ্ছেদ করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।

নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এলেন বিশিষ্ট তিন আইপিএস অফিসার—মুরলিধর, আকাশ মাঘারিয়া এবং কামানাশিস সেন। প্রশাসনিক মহলে এই তিন আধিকারিকেরই কর্মদক্ষতা, সততা এবং কড়া প্রশাসনিক ভূমিকার জন্য আলাদা সুখ্যাতি রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতি এবং অনিয়মের জাল ভেদ করতে এই নতুন আধিকারিকদের নিয়োগ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এতদিন ধরে দুর্নীতি দমন শাখার কর্মপদ্ধতিতে আরও বেশি গতি আনতে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির হার বাড়াতে যে আধুনিক কাঠামোর প্রয়োজন ছিল, তা এই তিন নতুন অফিসারের যোগদানে আরও পোক্ত হলো।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও, রাজ্য সরকারের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো রকম নমনীয় মনোভাব পোষণ করা হবে না। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসাররা নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাঁদের কড়া কর্মশৈলীর জন্য পরিচিত। ফলে সরকারি বা আধাসরকারি দপ্তরে যেকোনো ধরনের বেনিয়ম রুখতে এই শাখা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ও কড়া ভূমিকা পালন করবে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ওয়াকিবহাল মহলের নজর এখন এই নতুন ত্রিমুখী নেতৃত্বের কার্যকারিতার দিকেই। দুর্নীতি দমনে রাজ্য পুলিশের এই বিশেষ শাখা আগামী দিনে ঠিক কতটা কঠোর ও সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার।