মাছ বিক্রেতা থেকে সোজা ডাক্তার! পরিচালক পাভেলের ঝুলিতে আসছে ঋদ্ধি সেনের সঙ্গে কোন চমকপ্রদ গল্প?

টলিউডের অন্দরে এখন তুমুল চর্চা চলছে পরিচালক পাভেলের আগামী প্রজেক্ট ‘ডাক্তার কাকু’ নিয়ে। এই সিনেমায় পরিচালক নিজেই অভিনয় করছেন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে, যা ছবির আকর্ষণকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পর্দায় তো বটেই, শুটিং ফ্লোরের বাইরেও পরিচালক পাভেল এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের এই নতুন রসায়ন এখন গোটা ইন্ডাস্ট্রি ও সিনেমাপ্রেমীদের নজর কেড়ে নিয়েছে। ছবির গল্পে এই দুই তারকাকে ছোটবেলার দুই অবিচ্ছেদ্য বন্ধুর চরিত্রে দেখা যাবে, যাঁদের নিখাদ ও অটুট বন্ধনই এই পুরো চলচ্চিত্রের মূল আবেগের স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।
ছবির গল্প এবং চরিত্রগুলোর নামকরণের পেছনেও রয়েছে এক দারুণ আবেগঘন প্রেক্ষাপট। এই সিনেমায় ঋদ্ধি সেন অভিনয় করছেন ‘পুশকিন’ নামের একটি চরিত্রে। এই নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে সাহিত্যিক ছোঁয়া, কারণ ছবিতে পুশকিনের বাবা অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘ডাক্তার কাকু’ চরিত্রটি বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ও ভীষণভাবে সাহিত্যপ্রেমী একজন মানুষ। সেই কারণেই বিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক আলেকজান্ডার পুশকিনের নামে তাঁর ছেলের এমন নাম রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, খোদ পরিচালক পাভেল অভিনয় করছেন ‘পচা’ ওরফে কর্ণ নামের এক তরুণের চরিত্রে। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা এই দুই ভিন্ন প্রকৃতির মানুষের বন্ধুত্বের পথ ধরেই এগিয়ে চলে ছবির মূল চড়াই-উতরাই ও মূল কাহিনী।
ছবির কাহিনীতে পচা পেশায় একজন সাধারণ মাছ বিক্রেতা। সমাজের একেবারে প্রান্তিক স্তর থেকে উঠে আসা সেই তরুণের জীবনে আলোকবর্তিকা হয়ে আসেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘ডাক্তার কাকু’। সেই চিকিৎসকের স্নেহ, নিখাদ বিশ্বাস ও অকৃত্রিম আশীর্বাদই পচাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আর সেই স্বপ্নই একদিন তাকে সাধারণ মাছ বিক্রেতার গণ্ডি পেরিয়ে একজন সফল চিকিৎসক হয়ে ওঠার দুর্গম পথে এগিয়ে দেয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় পুশকিন শুধু তার বন্ধু হিসেবে পাশে থাকে না, বরং পচার জীবনের অন্যতম বড় মানসিক শক্তিতে পরিণত হয়। ঠিক এই কারণেই ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে সে কখনও সাধারণ নামে ডাকে না—তার কাছে তিনি চিরদিন সেই শ্রদ্ধার ‘ডাক্তার কাকু’ হিসেবেই সমাদৃত।
ঋদ্ধি সেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে পরিচালক পাভেলের গলায় স্পষ্ট শোনা গেল আবেগের সুর। তিনি জানিয়েছেন যে এর আগেও তাঁরা ‘মন খারাপ’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। পড়াশোনা, বইপত্তর, জীবন দর্শন, রাজনীতি কিংবা প্রাত্যহিক জীবনের নানা ছোটখাটো বিষয়—তাঁদের অফস্ক্রিন আলোচনার কোনো শেষ থাকে না। আড্ডার ফাঁকে যেমন হালকা ঠাট্টা-মশকরা চলে, তেমনই গভীর ও গুরুতর আলোচনাতেও মেতে ওঠেন তাঁরা। পাভেলের মতে, ‘পচা’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য অনেকটাই সহজ হয়েছে কারণ ‘পুশকিন’ হিসেবে তিনি পাশে পেয়েছেন ঋদ্ধির মতো একজন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রতিভাবান অভিনেতাকে। ঋদ্ধির মধ্যে এখনও যে নিখাদ ছেলেমানুষিটুকু বেঁচে রয়েছে, তা এই চরিত্রের জন্য ভীষণভাবে প্রয়োজনীয় ছিল। একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারা এবং তাঁর কাছ থেকে শুটিংয়ের প্রতি মুহূর্তে নতুন কিছু শেখাটা তাঁর কাছে এক বিরাট প্রাপ্তি বলে মন্তব্য করেছেন পরিচালক।
পরিচালক হিসেবে ইতিমধ্যেই দর্শকদের একাধিক ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত ছবি উপহার দেওয়ার পর, এবার অভিনেতা হিসেবে এক সম্পূর্ণ নতুন ও কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন পাভেল। আর এই অভিনব পথচলায় তিনি পাশে পেয়েছেন ঋদ্ধি সেনের মতো শক্তিশালী অভিনেতাকে। ‘ডাক্তার কাকু’ সিনেমাটি নিছক কোনো চিকিৎসকের পেশাগত জীবন বা সাফল্যের গল্প নয়; এটি মূলত একজন স্বপ্নবাজ সাধারণ ছেলের হার না মানা লড়াই, এক পথপ্রদর্শকের অকৃত্রিম আশীর্বাদ এবং দুই বন্ধুর জীবনের শেষ পর্যন্ত অটুট থাকার এক সোনালী উপাখ্যান। ছবি মুক্তির আগেই ‘পচা’ ও ‘পুশকিন’-এর এই অনন্য বন্ধুত্বের সমীকরণ দর্শকদের মনে গভীর রেখাপাত করবে এবং ঠিক কী বার্তা দেবে, তা জানার জন্য এখন থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন বাংলা সিনেমার দর্শকরা।