ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ কাণ্ডে তৃণমূলের বড় ধাক্কা! সুপ্রিম কোর্টে ঝুলেই রইল কালীঘাটের ভাগ্য!

দলীয় ৩ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন শীর্ষ আদালতে এই মামলায় খুব একটা সুরাহা না মেলায় কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। বিচারপতি এমএম সুন্দরেশের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে ইডি (ED) এবং তৃণমূল—উভয় পক্ষেরই বিস্তারিত বক্তব্য শোনা হবে। দলের প্রতিদিনের খরচ চালানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারকে কিছু টাকা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আদালতের তরফ থেকে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এদিন সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার মূল মামলায় তারা কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না।
সোমবার মামলার শুনানির শুরুতেই তৃণমূলের দুই প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও মেনকা গুরুস্বামী সওয়াল করতে গিয়ে দাবি করেন যে, দলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে ফ্রিজ করে দেওয়ার কারণে তাদের দৈনন্দিন সাংগঠনিক খরচ চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি দলের ২১৫ জন কর্মীর বকেয়া বেতন মেটানোও সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা আদালতকে জানান। এর জবাবে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান যে, তৃণমূলের ওই তিনটি বিতর্কিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্তত ৪৪০ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইডির পক্ষ থেকে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টগুলি পুনরায় সচল করার আর্জি জানিয়ে ইডির সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের দাবি নিয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ইডির এই পদক্ষেপে তারা এই মুহূর্তে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবে না। এর ফলে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ অবস্থাতেই থেকে যায় এবং সেখান থেকে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। হাইকোর্টের সেই রায়ের পরেই সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয় তৃণমূল শিবির।
এর আগে দলের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস অ্যাকাউন্টগুলিতে যাতে কোনো রকম অনৈতিক লেনদেন না হয়, সেই মর্মে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ঋতব্রত নামের এক ব্যক্তিও পুলিশের কাছে আবেদন জানান যাতে অ্যাকাউন্টগুলি থেকে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। এর ঠিক পরের দিনই পুলিশ অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে দেয়। তার বিরুদ্ধেও আলাদা করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিল কালীঘাট। সেই সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার অনুমতি দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দলের দৈনন্দিন খরচের জন্য ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে নির্দিষ্ট ছোট অঙ্কের লেনদেন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, এই গোটা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধানের জন্য হাইকোর্টের তরফ থেকে প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, যিনি বর্তমানে অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করছেন। আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, স্পেশ্যাল অফিসারের মাধ্যমেই ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে পারত কালীঘাট। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যেকোনো দু’জনের সই করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষরের পরেই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার নিয়ম ছিল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশ্যাল অফিসারের এই পরিচালনাধীন থাকার কথা ছিল এবং আইনি খরচের জন্যও এই অর্থ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইডি তদন্তে নেমে নতুন করে ফের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়।
তারই প্রতিবাদে এবং আদালতের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার দাবিতে তৃণমূল ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু সেখানে আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সোমবার সেই মামলাতেও কোনো তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিলল না। আগামী মঙ্গলবার উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে দলের নিত্যদিনের ব্যয় নির্বাহের জন্য হাইকোর্ট নিয়োজিত স্পেশাল অফিসারকে কিছু অর্থ বরাদ্দ করা যায় কি না, সে বিষয়ে আদালত নিজেরা মতামত জানাবে বলে জানিয়েছে।