মাঝরাতে শৌচকর্মের বাহানায় গাড়ি থামিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা! ঝাড়খণ্ড সীমান্তে খতম মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার

ঝাড়খণ্ডের অপরাধ জগতের অন্যতম ত্রাস ও মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার সুজিত সিনহা পুলিশের সঙ্গে ভয়াবহ এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে জামতারা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের কনভয় থামিয়ে এক নিরাপত্তারক্ষীর রাইফেল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় এই কুখ্যাত অপরাধীর। এই আকস্মিক ঘটনায় গোটা ঝাড়খণ্ডজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এতদিন কুখ্যাত গ্যাংস্টার সুজিত সিনহা সাহিবগঞ্জ বিভাগীয় কারাগারে বন্দি ছিল। সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ধানবাদ কারাগারে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশমতো রবিবার মাঝরাতে অত্যন্ত কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাকে ধানবাদের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই জামতারা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় এসে সুজিত হঠাৎ করেই শৌচকর্মের জন্য গাড়ি থামানোর জোরালো অনুরোধ জানায়। পুলিশ কনভয় থামামাত্রই সে চরম সুযোগ বুঝে অতর্কিতে এক নিরাপত্তারক্ষীর ওপর চড়াও হয় এবং তার সার্ভিস রাইফেলটি ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।

হঠাৎ এই সশস্ত্র আক্রমণে পুলিশকর্মীরা প্রথমে কিছুক্ষণের জন্য হতচকিত হয়ে পড়লেও অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিজের আত্মরক্ষা এবং বন্দিকে যেকোনো মূল্যে পালানো থেকে বিরত রাখতে বাধ্য হয়েই পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ বাহিনী। পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে রক্তাত্ব অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গ্যাংস্টার সুজিত সিনহা। এরপর ত্বরিত গতিতে তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের আন্ডারওয়ার্ল্ডে সুজিত সিনহা ছিল একচ্ছত্র আতঙ্কের অপর নাম। জোড়া খুনের একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় ইতিমধ্যেই তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। এছাড়া ব্যবসায়ীমহলে তোলাবাজি, অপহরণ এবং খুনসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা ঝুলছিল তার মাথার উপর। এর আগে মেদিনীনগর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি থাকা অবস্থাতেও সে জেলের ভেতর থেকেই তার অপরাধের বিশাল নেটওয়ার্ক সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করছিল। জেলের ভেতর তার এই অবৈধ প্রভাব ও অপরাধ চক্র সম্পূর্ণ ভাঙতে তাকে সাহিবগঞ্জ জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে আবার ধানবাদ জেলে স্থানান্তরের পথেই এই এনকাউন্টারের ঘটনাটি ঘটে।

এই হাই-প্রভাইল এনকাউন্টারের খবর সামনে আসতেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ঠিক কীভাবে একজন বন্দি এত সহজে পুলিশকর্মীর রাইফেল ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হল এবং এই সামগ্রিক ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা গ্যাংয়ের যোগসাজশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের জোরালো ধারণা, সুজিত সিনহার এই আকস্মিক মৃত্যুর ফলে ঝাড়খণ্ডের অপরাধ জগৎ ও আন্ডারওয়ার্ল্ডে এক বিরাট ধাক্কা লাগতে চলেছে।