‘আমি পার্টি করতাম, তাতে কী?’ অতীতের সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত

পুরনো পার্টি করার ভিডিয়ো এবং অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সামনে এনে নেটদুনিয়ায় লাগাতার কটাক্ষের শিকার হওয়ার পর অবশেষে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি জানিয়েছেন যে, নিজের মানসিকতা, আদর্শ এবং চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ও অধিকার তাঁর রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা একটি নতুন ভিডিয়োতে কঙ্গনা অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, একজন সচেতন এবং দেশপ্রেমিক হিন্দু হয়ে ওঠার পূর্ণ স্বাধীনতা দেশের সংবিধান তাঁকেও দিয়েছে।
সমালোচকদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কঙ্গনা জানান, মানুষ যেমন নিজের পছন্দমতো যে কোনো ধর্ম, মতাদর্শ বা জীবনযাত্রার পথ বেছে নিতে পারেন, তেমনই তাঁরও নিজের জীবন ও আদর্শের পথ পরিবর্তনের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। অনেক ট্রোলার তাঁকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন যে তিনি কবে থেকে ‘সংঘী’ হয়ে উঠলেন? এই ব্যঙ্গের তীব্র জবাব দিয়ে কঙ্গনা বলেন যে, তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এবং বিজেপির মতাদর্শে রূপান্তরিত হতে চান। তাঁর সোজা ও কড়া প্রশ্ন, সমাজ যদি অন্য মানুষের মতাদর্শ বদল বা রূপান্তর সহজে মেনে নিতে পারে, তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এত প্রশ্ন তোলার কারণ কী?
নিজের অতীতের বলিউড কেরিয়ার বা কাজ নিয়ে সাফাই গাইতে নারাজ এই অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “আজ আমি নিজের সমর্থনে বা সাফাইয়ে পুরনো কথা কিছু বলব না। আমি এও বলব না যে আমি অতীতে চলচ্চিত্রে আইটেম নম্বরের বিরুদ্ধে জোরালো কথা বলেছি, নায়কদের সমান পারিশ্রমিকের দাবি তুলেছি, কিংবা ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী তারকা বা স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। হ্যাঁ, আমি একসময় সাধারণ একজন হিন্দু ছিলাম। কিন্তু আজ আমি একজন সচেতন হিন্দু হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই, সেই পথে রূপান্তরিত হতে চাই। সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমি কেন সেই অধিকার পাব না?”
সমাজকে তীব্র আক্রমণ করে কঙ্গনা আরও বলেন যে, যখনই হিন্দু মেয়েদের অধিকার বা মতাদর্শ বদলের প্রসঙ্গ আসে, তখন সমাজের একটা নির্দিষ্ট অংশ অতীতে করা দশ বছর আগের পুরনো ভিডিয়ো বা সাক্ষাৎকার খুঁজে বের করে তাঁদের অকারণে অগ্নিপরীক্ষায় ফেলতে শুরু করে। সমালোচকরা আঙুল তুলে বলে— ‘তুমি তো অতীতে পার্টি করতে, নাইটক্লাবে যেতে, এই পোশাক পরতে বা এমন বিতর্কিত মন্তব্য করতে’। এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কঙ্গনার কড়া জবাব, “ঠিক আছে, আমি অতীতে সবকিছুই করতাম। কিন্তু আজ আমি একজন সচেতন ও সম্পূর্ণ হিন্দু হতে চাই। আমার জন্য সেই প্রগতির রাস্তা কেন বন্ধ করে দেওয়া হবে? সমাজের এই দ্বিচারিতা ও মোক্ষম ভণ্ডামি আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
ভিডিয়োর একেবারে শেষ পর্যায়ে কঙ্গনা জোরালো বার্তা দিয়ে বলেন যে, হিন্দু নারীদেরও তাদের অতীতের ভুলত্রুটি বা পুরনো জীবনধারা দিয়ে বিচার না করে, বর্তমানের চিন্তাভাবনা বদলানোর এবং নিজের মতো করে জীবন গড়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি আন্দোলন এবং তরুণ প্রজন্ম বা জেন জি-দের নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রোলের শিকার হচ্ছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত। সেই সমস্ত ট্রোলের জবাব দিতেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তাঁর পুরনো সব সাক্ষাৎকারের ভিডিয়ো নিয়ে সোচ্চার হলেন বলিউডের এই ‘কুইন’।