বিহারে মেধার লড়াইয়ের মহাযুদ্ধ! সিমুলতলা আবাসিক বিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হতেই হুড়োহুড়ি!

বিহারের অত্যন্ত সুপরিচিত ও স্বনামধন্য সিমুলতলা আবাসিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। গত ৩রা আগস্ট থেকে এই বছরের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিহার স্কুল পরীক্ষা বোর্ড (বিএসইবি) এই সংক্রান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পাশাপাশি অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াও সফলভাবে চালু করে দিয়েছে। যে সমস্ত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের সন্তানদের ভর্তি করতে আগ্রহী, তাঁরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে নিজেদের আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। উন্নত পরিকাঠামো, মানসম্মত আধুনিক শিক্ষা এবং চমৎকার ও শৃঙ্খলিত শিক্ষাগত পরিবেশের কারণে প্রতি বছর এই আবাসিক বিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বিপুল সংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী আবেদন করে থাকে।
বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২০২৬ সালের ১৮ই আগস্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনলাইনে এই ফর্ম পূরণ করার সুযোগ পাবেন। পুরো ভর্তি প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থাৎ সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক করা হয়েছে। বিএসইবি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের সুকঠিন দুটি ধাপের প্রবেশিকা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। প্রাথমিক প্রবেশিকা পরীক্ষা ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে এবং মূল প্রবেশিকা পরীক্ষা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তের সার্ভার সংক্রান্ত বা অন্য কোনো ঝামেলা এড়াতে যথেষ্ট সময় হাতে রেখেই আবেদনপত্র সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বোর্ডের পক্ষ থেকে বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং মাপকাঠি সম্পর্কে বলতে গেলে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেতে হলে ছাত্রছাত্রীকে অবশ্যই বিহার রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীকে অবশ্যই কোনো স্বীকৃত স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করতে হবে অথবা বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে নিয়মিত অধ্যয়নরত থাকতে হবে। বিহার শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম ও বয়সসীমা অনুযায়ীই প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে।
নির্বাচন পদ্ধতি প্রসঙ্গে বিশদে জানানো হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়াটি দুটি কঠোর পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে মূলত নৈর্ব্যক্তিক বা অবজেক্টিভ প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রাথমিক প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার মোট নির্ধারিত নম্বর থাকবে ১৫০ এবং উত্তর দেওয়ার মোট সময়কাল আড়াই ঘণ্টা। শুধুমাত্র এই প্রাথমিক পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে সফলভাবে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরাই পরবর্তী ধাপের মূল পরীক্ষায় (মেইনস) অংশগ্রহণের সুবর্ণ সুযোগ অর্জন করবে। এই মূল পরীক্ষাটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে দুটি ভিন্ন শিফটে অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারিত হবে বিহার সরকারের পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে।
অনলাইন আবেদন করার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ করা হয়েছে। আবেদন করার জন্য অভিভাবকদের প্রথমে বিহার বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত বা রেজিস্টার করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট ক্রেডেনশিয়াল দিয়ে লগ ইন করে অনলাইন আবেদনপত্রটি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে এবং নিজেদের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি, স্বাক্ষর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত আবেদন ফি সফলভাবে পরিশোধ করার পর ফর্মটি সাবমিট করতে হবে এবং ভবিষ্যতের সুবিধার্থে একটি প্রিন্টআউট সংগ্রহ করে নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।