থানায় ঢোকার আগেই চূর্ণবিচূর্ণ শরীর! খাইবার পাখতুনখোয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল মাটি!

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত সংবেদনশীল খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশের সোয়াত (Swat) জেলার কাবাল (Kabal) এলাকায় এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা অঞ্চল কেঁপে উঠেছে। কাবাল পুলিশ স্টেশনের কাছে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী একটি শান্তি মিছিল চলাকালীন এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১৩ থেকে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের পাশাপাশি একাধিক কর্তব্যরত পুলিশকর্মীও রয়েছেন, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটিকে ফের একবার উন্মোচন করেছে।

প্রাথমিক তদন্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অজ্ঞাতপরিচয় আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি জ্যাকেট পরে সরাসরি কাবাল থানার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছিল। সেই সময় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে থানার বাইরে মোতায়েন সতর্ক পুলিশকর্মীরা তাকে থামিয়ে তল্লাশির চেষ্টা করেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই হামলাকারী নিজের গায়ে থাকা বিস্ফোরক ফেটিয়ে দেয়। বিকট শব্দে ঘটা ওই বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ঘন ধোঁয়া ও রক্তে ভেসে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছিন্নভিন্ন দেহ এবং ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেঁচে থাকা মানুষের আর্তনাদে এক বিভীষিকাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সোয়াট জেলার পুলিশ আধিকারিক উমর খান মিডিয়াকে জানিয়েছেন যে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জনেরও বেশি মানুষ জখম অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। তবে বহু আহত ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে চিকিৎসকরা। হামলার পর থেকেই পুরো জেলাজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে সশস্ত্র নিরাপত্তাবাহিনী।

এই ভয়াবহ নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি। শোকপ্রকাশের পাশাপাশি দোষী সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রাথমিক সন্দেহের তির সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকিস্তানি তালিবান (TTP)-এর দিকেই রয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।