রেলযাত্রায় বড় পরিবর্তন! বিনা টিকিটে ভ্রমণ বা কামড়াকামড়িতে কি জেল নয়, সোজা পকেটে টান? জানুন

ভারতীয় রেলওয়ের নিয়মে এল বড়সড় যুগান্তকারী পরিবর্তন। রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর একাধিক ধারায় গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সংশোধন এনেছে রেল কর্তৃপক্ষ। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর) সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হলো ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়াকে অনেকটাই সহজ এবং নাগরিক-বান্ধব করা। একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা এবং রেল পরিষেবার স্বাভাবিক পরিচালনা বিঘ্নিতকারী অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান আগের মতো বা আরও কঠোর করা হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, নতুন সংশোধিত বিধান অনুসারে এখন থেকে প্রথমবার বা তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের সাজা এড়িয়ে আর্থিক জরিমানার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে। তবে যদি কোনো যাত্রী একই অপরাধ বারবার করেন অথবা অপরাধের মাত্রা গুরুতর হয়, তবে কঠোর শাস্তির বিধান কঠোর হাতে বজায় রাখা হবে। এই সংশোধনের আওতায় মূলত রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর ১৩৭, ১৩৮, ১৪২, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, ১৫৫, ১৫৯, ১৬২, ১৬৩, ১৯৬৫, ১৬৬, ১৬৭ এবং ১৭২ নম্বর ধারায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন এই নিয়মের ফলে বৈধ টিকিট ছাড়া ভ্রমণ, নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে অননুমোদিত যাত্রা করা, টিকিট হস্তান্তর করা, সংরক্ষিত কামরায় অনধিকার প্রবেশ করা, ধূমপান করা, রেল সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে মূলত আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হবে। সাধারণত জরিমানা পরিশোধ না করলে কিংবা একই অপরাধ বারবার সংঘটিত হলেই কেবল কারাদণ্ডের বিধান কার্যকর করা হবে।

অন্যদিকে, যাত্রী সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও জনশৃঙ্খলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। মাতাল অবস্থায় উপদ্রব সৃষ্টি করা, রেলকর্মীদের সরকারি কাজে বাধা প্রদান করা, রেললাইনে অননুমোদিত প্রবেশ, বিপজ্জনক সামগ্রী বহন বা রেল পরিচালনায় সরাসরি বিঘ্ন ঘটানোর মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আগের মতোই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট বিধানকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-এর সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে, যাতে সামগ্রিক আইনের প্রয়োগ আরও বেশি কার্যকর ও অভিন্ন হয়ে ওঠে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে দেশের সমস্ত যাত্রী ও রেল ব্যবহারকারীদের এই সংশোধিত নিয়মগুলি সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকার এবং ট্রেন ভ্রমণের সময় রেলের সমস্ত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। এনএফআরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, যাত্রীদের আন্তরিক সহযোগিতাতেই একমাত্র একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও প্রকৃত যাত্রী-বান্ধব রেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।