যৌন হেনস্থা কাণ্ডে বিস্ফোরক রায়! দিল্লির আদালতে পুরোপুরি বেকসুর খালাস ব্রিজভূষণ শরণ সিং!

ভারতীয় কুস্তির ইতিহাসে গত কয়েক বছর ধরে চলা এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী অধ্যায়ের আইনি পরিণতি ঘটল। দিল্লির একটি বিশেষ রাউস অ্যাভিনিউ আদালত রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউএফআই)-এর প্রাক্তন প্রধান তথা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে মহিলা কুস্তিগিরদের দায়ের করা হাই-প্রোফাইল যৌন হেনস্থার মামলা থেকে সম্পূর্ণভাবে বেকসুর খালাস করেছে। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পরই দেশজুড়ে আইনি এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রায়ের পরপরই প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং দাবি করেছেন যে, তিনি প্রথম দিন থেকেই নিজের নির্দোষ থাকার কথা জোরালোভাবে বলে আসছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আদালতের এই রায় তাঁর এবং তাঁর সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির ও আনন্দের খবর। উল্লেখ্য, এই মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল যখন দেশের শীর্ষস্থানীয় মহিলা কুস্তিগীররা ডব্লিউএফআই প্রধান হিসেবে তাঁর কার্যকালে নানা অনিয়ম ও যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন।
উল্লেখ্য, এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের এক নজিরবিহীন প্রেক্ষাপট। বজরং পুনিয়া, বিনেশ ফোগাত এবং সাক্ষী মালিকের মতো দেশের তাবড় অলিম্পিক পদকজয়ী ও শীর্ষস্থানীয় কুস্তিগীররা ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের গ্রেপ্তার এবং তাঁকে কুস্তি ফেডারেশন থেকে অপসারণের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার ধর্না ও আন্দোলন চালিয়েছিলেন। সেই সময়ে কুস্তিগীরদের এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদ গোটা দেশ তথা আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নজর কেড়েছিল। আন্দোলনকারীরা নতুন সংসদ ভবনের দিকে মার্চ করার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন এবং একাধিক ক্রীড়াবিদকে আটক করা হয়, যা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ভারতীয় প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন ব্রিজ ভূষণের বিরুদ্ধে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছিল এবং এই মামলাটি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দিল্লির আদালতে তিনি ক্লিনচিট পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রের এই অধ্যায়টি এক নতুন মোড় নিল। আইনি লড়াইয়ে এই জয় পাওয়ার পর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।