বারুইপুরকাণ্ডের ছায়া মধ্যপ্রদেশে! শৌচকর্ম করতে গিয়ে নৃশংস ধর্ষণ ও খুন ১৪ বছরের নাবালিকা!

মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায় ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত রবিবার ভোরে কোটা থানা এলাকার এক ১৪ বছরের নাবালিকা শৌচকর্মের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। এরপর সে আর ঘরে ফিরে আসেনি। দীর্ঘক্ষণ খোঁজখবরের পর পরিবারের সদস্যরা আবের-লাখানওয়াহ সড়কের পাশের একটি ঝোপ থেকে ওই কিশোরীর অর্ধনগ্ন ও নিথর দেহ উদ্ধার করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী কোটার-সেমারিয়া সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ডগ স্কোয়াড এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কোটার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) প্রেমলাল কুরভে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রথমে ওই কিশোরীকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধী ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তার গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করেছে এবং বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ পরিবারের হাতে নিহতের দেহ তুলে দেয় এবং ঘটনাস্থলটি পুরোপুরি সিল করে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক কিছুদিন আগেই গত জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। সেই ঘটনার জেরে চরম উত্তেজনা, পথ অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল। পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীতে পুলিশের হেফাজতে অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় ধৃত প্রভাস এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ওই মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। একের পর এক এমন মর্মান্তিক অপরাধ এবং নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ইস্যুটি আবারও চরমভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক মহল এই ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করছেন। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখে দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর।