ডিমিটেশনের জালে আটকে কি বড় বিপদে বিজেপি? লোকসভায় সংখ্যা জোগাড় করতে গিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছে মোদী সরকার!

আসন্ন ডিলিমিটেশন বিল বা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চরম জল্পনা শুরু হয়েছে। লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিলটি সংসদে পাস করানোর ক্ষেত্রে বিজেপি নেতৃত্ব এখনও পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী হতে পারছে না। তৃণমূল কংগ্রেস সহ একাধিক রাজনৈতিক দলে ভাঙন ধরিয়ে এবং বিভিন্নভাবে সমর্থন জোগাড় করার চেষ্টা চললেও, লোকসভায় এখনও প্রয়োজনীয় ও কাঙ্খিত সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে পারেনি শাসকদল। যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কষে রাজ্যসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও নিম্নকক্ষের অঙ্ক নিয়ে তীব্র উদ্বেগ বজায় রয়েছে। বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান দল ডিএমকে এখনও এই বিলের বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্টভাবে জানায়নি। কংগ্রেসের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ও বিবাদের জেরে ‘ইন্ডিয়া’ জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ডিএমকে শেষ পর্যন্ত ডিলিমিটেশন বিলের সমর্থনে কেন্দ্রের পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। যদিও সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু বিলের ক্ষেত্রে ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভোট দিয়েছে, তাই এবারের সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।পদ্মশিবির সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, গত এপ্রিল মাসে যে ডিলিমিটেশন বিলটি পেশ করা হয়েছিল, তাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা সংশোধনী আনা হচ্ছে। ডিএমকে সহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পরই এই সংশোধনীগুলির দিকে এগোচ্ছে সরকারপক্ষ। ডিএমকে সুপ্রিমো এমকে স্ট্যালিন দলীয় বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংশোধিত ডিলিমিটেশন বিলটি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যালোচনা করার পরেই তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। লোকসভায় ডিএমকে-র ২২ জন এবং রাজ্যসভায় ৮ জন সাংসদ রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর এই সাবেক শাসকদলটির রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।