হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে কি এবার বাঁধ সাধবে বয়স? ব্যবহারকারীদের কাছে জন্মতারিখ চাওয়ায় তুঙ্গে জল্পনা

বর্তমান প্রজন্মের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে শুরু করে অফিসের জরুরি কাজ—সবক্ষেত্রেই এই অ্যাপের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের একটি নোটিফিকেশন পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তাঁদের জন্মতারিখ (Date of Birth) জানাতে বলা হচ্ছে। এই নির্দেশ সামনে আসার পরই জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি এবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বয়স কোনো বড় বাঁধা বা শর্ত হয়ে দাঁড়াতে চলেছে?
কেন জন্মতারিখ জানতে চাইছে হোয়াটসঅ্যাপ?
হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল সাপোর্ট পেজ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বা নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ব্যবহার করার সময় সংস্থা ব্যবহারকারীদের বয়স বা জন্মতারিখ জানতে চাইতে পারে। এমনকি প্রয়োজনে বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে। বিভিন্ন দেশের আইনি নিয়মকানুন মেনে চলা এবং ব্যবহারকারীদের বয়স অনুযায়ী নিরাপদ পরিষেবা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। এর মধ্যে রয়েছে:
বয়স উপযোগী মেটা এআই (Meta AI) ফিচার প্রদান করা।
স্ট্যাটাস ও চ্যানেলে বয়সভিত্তিক বা নিরাপদ বিজ্ঞাপন দেখানো।
পরিষেবার নির্দিষ্ট শর্তাবলি সঠিকভাবে কার্যকর করা।
সুরক্ষা ও গোপনীয়তা আরও বেশি জোরদার করা।
সংস্থার পক্ষ থেকে এও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ব্যবহারকারীর জন্মতারিখ বা বয়স অন্য কোনো সাধারণ ব্যবহারকারী দেখতে পাবেন না, এটি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়।
ভারতে কি কোনো নতুন নিয়ম আসছে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের সুরক্ষা ও আইনি নিরাপত্তার কারণে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর বয়সসীমা চালু করা হচ্ছে। যেমন অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (যদিও সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ আপাতত এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারত সরকার যদি এই ধরনের কোনো নতুন আইনি নির্দেশিকা আনে, তবে হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি টেলিগ্রাম, সিগন্যাল, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকেও বাধ্যতামূলকভাবে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে ভারত সরকার বা হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এ দেশে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।