৩০ দিন জেলে থাকলেই কি চলে যাবে মন্ত্রিত্ব? মোদী সরকারের মেগা বিল নিয়ে বড় আপডেট দিল সংসদীয় কমিটি!

প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যদি কোনো গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে একটানা ৩০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে পুলিশ বা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে কিংবা কারাগারে বন্দি থাকেন, তবে তাঁদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে অপসারণ করার সংস্থান সম্বলিত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিতর্কিত ‘সংবিধান (১৩০তম সংশোধন) বিল, ২০২৫’ সংক্রান্ত সংসদীয় যৌথ কমিটির (জেপিসি) কার্যকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুক্রবার শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহে লোকসভায় এক বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংসদের উভয় কক্ষের সম্মতিতে গঠিত এই বিশেষ যৌথ কমিটি এখন আগামী শীতকালীন অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করার অতিরিক্ত সময় লাভ করল।
সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল, ২০২৫ ছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গठन (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ এবং সংঘ রাজ্য ক্ষেত্র সরকার (সংশোধনী) বিল, ২০২৫-এর ওপর গঠিত সংসদের এই যৌথ কমিটির বর্তমান চেয়ারপার্সন তথা বিশিষ্ট বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গী শুক্রবার লোকসভায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার জন্য মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের ব্যাপক আলোচনার পর ধ্বনি ভোটের মাধ্যমেই এই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। এর আগে চলতি বছরের গত ১৭ জুলাই এই যৌথ কমিটি তাদের প্রাথমিক খসড়া বা ড্রাফট রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করেই স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সময় কমিটির সভাপতি অপরাজিতা সারঙ্গী সংবাদমাধ্যম ও সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিকাঠামোয় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলা এই স্পর্শকাতর বিষয়টিতে আরও বিশদ এবং গভীর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, যার জন্যই এই অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনের একেবারে শেষ মুহূর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী দলগুলির তীব্র হট্টগোল, প্রবল প্রতিবাদ ও চরম বিরোধিতার মধ্যেই এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিলগুলি সংসদে পেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে বিরোধীদের তুমুল প্রতিবাদের মুখে পড়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজস্ব প্রস্তাবের ভিত্তিতেই লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ মতামতের ভিত্তিতে বিলগুলিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) কাছে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় দেশের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এই বিলটি আইন হিসেবে পাস হলে তা ভারতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অপরাধমূলক অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের রাশ টানতে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা বিতর্ক চলছে। আগামী দিনে শীতকালীন অধিবেশনে এই জেপিসির চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে যে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় এই প্রস্তাবিত কঠোর আইনটি তার কাঙ্ক্ষিত রূপ লাভ করতে চলেছে কি না।