গরমে বাড়ি ভাঙা, শীতে বিষাক্ত ধোঁয়া! দিল্লির মর্মান্তিক দূষণ রহস্য ফাঁস করল কেন্দ্র!

জাতীয় রাজধানী দিল্লির ভয়াবহ ও লাগামছাড়া বায়ুদূষণ নিয়ে এক নতুন এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে খোদ কেন্দ্র সরকার। বছরের পর বছর ধরে দিল্লির বাতাস কেন বিষাক্ত হয়ে উঠছে এবং কোন কোন মৌসুমে কোন বিশেষ কারণে এই পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, সে বিষয়ে রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের রাষ্ট্রেমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। সরকারের দেওয়া এই তথ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির দূষণের উৎস এবং তার চরিত্রও সম্পূর্ণ বদলে যায়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, মূলত ২০১৮ সালে দিল্লিতে পিএম ২.৫ (PM2.5) এবং পিএম ১০ (PM10)-এর প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করার জন্য একটি বিশদ ‘সোর্স আপোর্শনমেন্ট স্টাডি’ বা উৎস অবদান মূল্যায়ন করা হয়েছিল। সেই গবেষণার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এখন রাজধানীর দূষণের আসল কারণগুলো স্পষ্ট হয়েছে। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দিল্লির বায়ুদূষণ মূলত দুই ঋতুতে দুটি ভিন্ন কারণে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে—একটি হল গ্রীষ্মকাল এবং অন্যটি শীতকাল।

গ্রীষ্মকালে দিল্লির বাতাস বিষাক্ত করার প্রধান ও সবচেয়ে বড় খলনায়ক হলো যত্রতত্র ভবন নির্মাণ ও তা ভাঙার কাজ (কনস্ট্রাকশন এবং ডিমোলিশন)। এই মৌসুমে কেবল নির্মাণ কাজ এবং ওড়ার ধুলোবালি থেকেই প্রায় ২৫ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত দূষণ ঘটে থাকে। এরপরের অবস্থানেই রয়েছে ক্রমবর্ধমান যান চলাচল বা ট্রান্সপোর্ট সেক্টর, যা মোট দূষণের ১৮ থেকে ২১ শতাংশের জন্য দায়ী। এছাড়া শিল্প কারখানা, বায়োমাস পোড়ানো এবং অন্যান্য গ্যাসের কারণে ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ এবং কঠিন বর্জ্য বা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ফলে প্রায় ১১ থেকে ১৪ শতাংশ দূষণ ছড়ায়।

অন্যদিকে, শীতকালের চিত্রটা অনেকটাই আলাদা ও আরও বেশি ভয়ঙ্কর। ঠাণ্ডার দিনে বাতাসে ধোঁয়া এবং যানবাহনের ধোঁয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়। শীতকালে ট্রান্সপোর্ট, ইন্ডাস্ট্রি ও বায়োমাস পোড়ানোর গ্যাস মিলে প্রায় ২৪ থেকে ২৮ শতাংশ দূষণ সৃষ্টি করে, যেখানে কেবল গাড়ি ও যাতায়াতের ধোঁয়া ১৯ থেকে ২৪ শতাংশের জন্য দায়ী। এছাড়া পৌরসভার কঠিন বর্জ্য, গৃহস্থালির আবর্জনা এবং খড় বা ফসলের অবশেষ পোড়ানোর ফলে ১৭ থেকে ২৩ শতাংশ বাতাস দূষিত হয়। তবে শীতের মরসুমে রাস্তা ও নির্মাণ কাজের ধুলোর উপদ্রব গরমের তুলনায় কিছুটা কম থাকে, যা ১০ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত দূষণ ছড়ায়।

উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানী দিল্লির এই গ্যাস চেম্বারে পরিণত হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার (১৩০২৯/১৯৮৫) পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত জাতীয় রাজধানী অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বায়ু গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশনকে (CAQM) দূষণের প্রধান কারণগুলো খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বায়ু গুণমান বিশেষজ্ঞরা এই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন, যা আগামী দিনে দিল্লির দূষণ রোধে সরকারের কর্মপন্থা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।