বান্ধবীর বাড়ি থেকে কোটি টাকার সোনা উদ্ধার থেকে নামী ব্যবসায়ীর অফিসে হানা! বিপাকে প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী

প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে চলা আর্থিক প্রতারণার মামলায় এবার ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শুক্রবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি আধিকারিকেরা। কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, শেক্সপিয়র সরণি, খিদিরপুর, বড়বাজার, রাজারহাট-নিউ টাউন, সল্টলেক ছাড়াও নদিয়া জেলার একাধিক ঠিকানায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঠিক কোথায় কোথায় চলছে তল্লাশি?

রাজ্য পুলিশের করা আর্থিক দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। মাস দুয়েক আগেই রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা নদিয়ার তেহট্ট এলাকায় সব্যসাচীর এক বান্ধবীর বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় চার কোটি টাকার সোনার গয়না উদ্ধার করেছিল।

সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার মূলত সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ী এবং তাঁর বেশ কয়েকজন পরিচিতর অফিস ও বাড়িতে এই ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী ইডি আধিকারিকদের জোরালো সন্দেহ, বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা নামে-বেনামে একাধিক সম্পত্তি ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। সেই সমস্ত কালো টাকার নির্দিষ্ট হদিশ এবং মানি ট্রেইল পেতেই এই অভিযান চলছে।

এর আগের পুলিশি পদক্ষেপে কী মিলেছিল?

এর আগে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, সব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাংকের লকার মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। এমনকি, সব্যসাচী ও তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের মোট পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট (Fixed Deposit) এবং নগদ অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত (Freeze) করেছিল পুলিশ। বর্তমানে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতর্কিত হানায় সব্যসাচীর অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।