টুলু মণ্ডলের সঙ্গে নাম জড়ানোয় ফুঁসে উঠলেন অনুব্রত! মানহানির মামলার হুঙ্কার দিয়ে দিলেন কড়া সতর্কবার্তা

টুলু মণ্ডলের সঙ্গে নিজের নাম জড়ানো নিয়ে এবার চরম ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বীরভূমের একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। প্রয়োজনে মানহানির মামলা করার জোরালো হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বর্তমান রাজ্য সরকার ও পুলিশের ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়েতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও মহলে ছড়ানো জল্পনা প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন অনুব্রত।

সাম্প্রতিক সময়ে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং অঢেল সম্পত্তি অর্জনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে। আর এই সমস্ত সম্পত্তির পুরোটাই সম্পূর্ণ বেআইনি ও বেনিয়মের মাধ্যমে তৈরি বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, এই টুলু মণ্ডল নাকি একসময়ে বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে আসতেই আর চুপ থাকেননি কেষ্ট, তিনি সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

এই পুরো বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান প্রশাসন, পুলিশ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি (DIG)-দের ভূয়সী প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট সুরে বলেন, “এই সরকার খুব ভালো কাজ করছে, পুলিশও খুব ভালো কাজ করছে। আমি পুলিশকেও ধন্যবাদ জানাই, বর্তমান সরকারকেও ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি ডিআইজি যাঁরা আছেন, তাঁদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই।”

তবে সরকারের প্রশংসা করার পাশাপাশি নিজের নাম জড়ানোর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনুব্রত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, টুলু মণ্ডল তাঁর কোনো বিশেষ ঘনিষ্ঠ নন, তিনি নেহাতই একজন পরিচিত ব্যক্তি মাত্র। কেষ্টর দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি, “আমায় টানলে এবার আমি ছাড়ব না, মানহানির মামলা করব। বীরভূম জেলায় প্রতিদিন সাড়ে তিন কোটি টাকা রেভিনিউ হতো। সবটাই পাথর কোয়ারি নয়, সেখানে ওভারলোডিং রয়েছে, মদ রয়েছে, বালি রয়েছে— সমস্ত ডিপার্টমেন্ট মিলে এই বিরাট রোজগারটা হতো।”

নিজের সাফাই গেয়ে অনুব্রত আরও বলেন, “নাজির মোল্লা আমাকে ভালো করে চেনে, টুলু মণ্ডলও আমার একজন পরিচিতি মাত্র। কিন্তু ওঁর মেয়ের বিয়েতে আমি যাইনি। নাজির মোল্লা, কমল খান আমাকে চেনে। কিন্তু টুলু মণ্ডলের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা এলো কোত্থেকে? আমি তো দীর্ঘ আড়াই বছর জেলে বন্দি ছিলাম। সেই সময়ে বাইরে কী হয়েছে, না হয়েছে, তা আমি কী করে বলব? টুলু মণ্ডলের নিজস্ব অঞ্চল আছে, সে দু-তিনবার আমার সঙ্গে দলের মঞ্চে উপস্থিত ছিল। তার মানেই কি সে আমার অতি ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল?”

অনুব্রত আরও ক্ষোভের সুরে যোগ করেন, “আমি যখন দলের জেলা সভাপতি পদে ছিলাম, তখন আমার কাছে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসতেন। তাই বলে কি তাঁরা সবাই আমার খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলেন? ওঁর মেয়ের বিয়েতে তো সমাজের বহু মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তো যাইনি। আমি সচরাচর কোনো ভোজবাড়িতেই যাই না।” যে বা যাঁরা অযথা টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মানহানির মামলা করার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল।