উত্তরাখণ্ডে অবিরাম বর্ষণে ফের বড় বিপত্তি! ধসের জেরে স্থগিত রাখা হলো পবিত্র কেদারনাথ যাত্রা

উত্তরাখণ্ডে অবিরাম বর্ষণের জেরে ফের চরম বিপত্তি দেখা দিয়েছে। গৌরীকুণ্ডের (Gaurikund) কাছে পাহাড়ি ঢাল থেকে হঠাৎ প্রকাণ্ড পাথর ও কাদা ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার নতুন করে স্থগিত রাখা হয়েছে পবিত্র কেদারনাথ যাত্রা (Kedarnath Yatra)। রাজ্য প্রশাসন ও জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গৌরীকুণ্ড গেটের মাত্র ২০০ মিটার সামনে আচমকা বড় বড় পাথর এবং মাটি সমেত উপড়ে যাওয়া গাছ পড়ে কেদারনাথের মূল হাঁটা পথটি সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন তৎক্ষণাৎ তাঁদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে গেছে এবং বর্তমানে পুরো যাত্রাটি সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ থামিয়ে রাখা হয়েছে।

রুদ্রপ্রয়াগের জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আধিকারিক নন্দন সিং রাজওয়ার জানিয়েছেন যে, সোনপ্রয়াগেই সমস্ত তীর্থযাত্রীদের আটকে রাখা হয়েছে। রাস্তাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও চলাচলের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করার পরেই কেবল তাঁদের সামনে এগোতে দেওয়া হবে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধস সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে, কিন্তু সমানে চলতে থাকা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢাল থেকে ক্ষণে ক্ষণে পাথর ঝরে পড়ার কারণে উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতার কাজে বারবার বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর মাত্র দিনকয়েক আগেই গৌরীকুণ্ড থেকে এক কিলোমিটার দূরে ছোড়ির কাছে ধস নামায় পথ আটকে গিয়েছিল। সেই পথ পরিষ্কার করে পরিষেবা সবেমাত্র স্বাভাবিক করা হয়েছিল, আর ঠিক তার পরেই ফের এই নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হলো তীর্থযাত্রীদের।

অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের পুরো রাজ্য জুড়েই চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বা মৌসম ভবনের পক্ষ থেকে উত্তরাখণ্ডে নতুন করে হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করা হয়েছে। লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পাহাড়ি নদীতে দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক বিবেচনা করে উত্তরকাশী জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভাগীরথী নদী থেকে ১০০ কিউসেক জল ছেড়েছে, যার ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার সমস্ত বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেবল কেদারনাথ পথই নয়, লাগাতার ধসের কারণে চামোলি জেলার পোখরি-রুদ্রপ্রয়াগ সড়ক এবং যমুনোত্রী জাতীয় সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে আগামী দিনে আরও প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।