স্বস্তির খবর নাকি নতুন চাপ? হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই কেন পেট্রল ও ডিজেলের দামে হাত দিল না ওএমসি?

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হ্রাসের অত্যন্ত স্পষ্ট ও অনুকূল প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি বাজারে। আমেরিকা ও ইরানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহ কাটিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ও পরিবহনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দর উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী রয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের এই দাম হ্রাসের ইতিবাচক পরিস্থিতিতেও দেশের সাধারণ জনগনের খুচরা বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দামে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা কাটছাঁট ঘটাল না দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMC)। বিগত ২৫ মে-র পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরা বাজারে জ্বালানির দাম নিখুঁতভাবে একই জায়গায় সম্পূর্ণ স্থির ও অপরিবর্তিত অবস্থায় বজায় রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রধান মেট্রোপলিটন শহরগুলির বর্তমান খুচরা বাজারদর পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, রাজধানী দিল্লিতে এক লিটার পেট্রল এখনও ১০০ টাকার অনেক ওপরে অনড় রয়েছে। বর্তমানে দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রল ১০২.১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৯৫.২০ টাকায় বহাল রয়েছে। অন্যদিকে, দেশের আর্থিক রাজধানী তথা বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে পেট্রলের দাম ১১২ টাকা ছুঁইছুঁই (১১১.২১ টাকা) রেকর্ড করা হয়েছে এবং ডিজেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৯৯.৮২ টাকার নির্ধারিত মূল্যে। এছাড়া কলকাতা, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো দেশের অন্যান্য প্রধান মেট্রো শহরগুলিতেও পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১১০ টাকার উপরেই অত্যন্ত শক্তভাবে বজায় রয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে হায়দরাবাদ শহরটি বাদে দেশের বাকি সমস্ত প্রধান শহরগুলিতে ডিজেলের দাম একশো টাকার কিছুটা নিচেই ঘোরাফেরা করছে।
জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পেট্রল ও ডিজেলের খুচরা মূল্যের ওঠানামার পিছনে বহুমুখী আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কারণ ও সমীকরণ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। এর মধ্যে সবথেকে প্রধান ও বড় নিয়ামক হলো বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, যা মূলত পরিশোধিত হওয়ার পরই রিফাইনারি থেকে পাম্পে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। পাশাপাশি, ভারত যেহেতু তার মোট জ্বালানি চাহিদার বিশাল একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করার ওপর নির্ভর করে থাকে, তাই মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় টাকার বিনিময় হারের ওঠানামাও অত্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে যদি ভারতীয় মুদ্রা দুর্বল হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই দেশের আমদানির খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে খুচরা বাজারের ওপর। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারগুলির ধার্য করা নানা ধরনের আবগারি শুল্ক ও কর, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পণ্য পরিবহনের খরচ এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা ও জোগানের সামগ্রিক পরিস্থিতিও জ্বালানির চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।