সংসদে মিথ্যে বলার অভিযোগ! জিতেন্দ্র সিংয়ের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা দিলেন কংগ্রেস সাংসদ

সংসদের অন্দরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের লড়াই ফের একবার চরমে পৌঁছেছে। পাবলিক পরীক্ষাগুলিতে অসদুপায় ও জালিয়াতি রোধ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলের ওপর বিতর্ক চলাকালীন ভুল তথ্য পেশ করে সংসদকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে তাঁরই বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকারের কাছে সরাসরি স্বাধিকার ভঙ্গের (Breach of Privilege) নোটিস জমা দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ তথা পিএসি (PAC) চেয়ারম্যান কেসি বেণুগোপাল।
লোকসভার অধ্যক্ষকে লেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই চিঠিতে কেসি বেণুগোপাল অভিযোগ করেছেন যে, গত ২৯ জুলাই বিকেল তিনটের সময় সংশ্লিষ্ট বিলের ওপর আলোচনার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছিলেন যে, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো রকম গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র জলকামান বা টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল।
কী বলেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?
সংসদে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং হিন্দিতে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেছিলেন, “দ্বিতীয়ত, এটি বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে কোনো গুলি চালানোর ঘটনাই ঘটেনি, কেবল টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়েছিল। যখন বাস্তবে গুলিই চলেনি, তখন তা চালুর নির্দেশ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আর এই ধরনের নির্দেশ দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার একমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, কোনো মন্ত্রীর নেই।”
তথ্য গোপনের জোরালো অভিযোগ কংগ্রেসের:
কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপালের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বাস্তব তথ্যের একদম বিপরীত। কারণ, পুলিশি দমনপীড়ন ও প্রতিবাদে গুলি চালানোর ঘটনা বাস্তবে সত্যি ঘটেছে। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া ব্যক্তি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সেই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ বর্তমানে জনসমক্ষে রয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী সজ্ঞানে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য পেশ করে সংসদকে (হাউসকে) বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় কোনো তথ্য রেকর্ড করার আগে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা মন্ত্রীর প্রাথমিক দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব অবহেলা করায় এটি সরাসরি স্বাধিকার ভঙ্গের সামিল।
এই অকাট্য যুক্তির ভিত্তিতে লোকসভার রুলস অফ প্রসিডিওরের ২২২ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রিভিলেজ কমিটির কাছে পাঠানোর কড়া অনুরোধ জানিয়েছেন কেসি বেণুগোপাল। যদিও কংগ্রেস নেতার দেওয়া এই স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস লোকসভার স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে সংসদীয় রাজনৈতিক বৃত্তের অন্দরের খবর অনুযায়ী, এর পাল্টা জবাব হিসেবে লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও শাসক দলের পক্ষ থেকে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস পেশ হতে পারে। সবমিলিয়ে বর্তমান অধিবেশন চলাকালীন দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের এই তুমুল তরজায় ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ চত্বর।