চুরির আগে দেবীর কাছে ক্ষমা! নাগপুরের মন্দিরে অভিনব কায়দায় দানবাক্স লুট

মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়ে গেছে। সাধারণত চোরেরা অপরাধের সময় কোনো নিয়ম বা সংস্কারের তোয়াক্কা করে না, তবে এই ঘটনায় চোরদের অদ্ভুত এক ভক্তি ও অপরাধবোধের মিশ্রণ দেখা গিয়েছে। নাগপুরের একটি শীতলা মাতার মন্দিরে মধ্যরাতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই দৃশ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে খোদ পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। পবিত্র মন্দিরে ঢুকেই দেবীর প্রতি অদ্ভুত এক অনুশোচনা এবং চুরির অপরাধ থেকে বাঁচতে ক্ষমা চাওয়ার সেই ভিডিও এখন নেটপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে, যখন ঘড়ির কাঁটায় ঠিক রাত দুটো বাজে। রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে অত্যন্ত সুকৌশলে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে দুই চোর। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মন্দিরের প্রণামী বাক্স বা দানবাক্স। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মন্দিরের চত্বরে পা রেখেই তাদের মধ্যে একজন সরাসরি দেবমূর্তির দিকে তাকায়। এরপর অত্যন্ত ভক্তিভরে নিজের দুই কান ধরে দেবীর কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইতে শুরু করে ওই চোর, যেন সে বোঝাতে চাইছে পরিস্থিতির চাপে সে এই অপরাধ করতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষমা চাওয়ার সেই পর্ব চুকিয়েই সে তার আসল উদ্দেশ্যে লেগে পড়ে এবং দানবাক্স ভাঙার কাজ শুরু করে।

পুরো চুরির পরিকল্পনা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, যখন একজন চোর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শাবল বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে দানবাক্সের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল, তখন তার সহযোগী বাইরে পাহারা দিচ্ছিল যাতে কেউ টের না পায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাক্স ভেঙে ক্যাশ বাক্সে থাকা সমস্ত নগদ টাকা নিজেদের ব্যাগে ভরে ফেলে তারা। কাজ হাসিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় দুই চোর। সকালে মন্দির খুলে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা প্রথম নজরে আসে পুরোহিতের।

মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল আটটার দিকে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত জিতেন্দ্র পাণ্ডে যখন পূজা দিতে আসেন, তখন তিনি দেখতে পান মন্দিরের মূল দরজার তালা ভাঙা এবং ভেতরের দানবাক্সটি সম্পূর্ণ খালি। সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় পুলিশ থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং তা খতিয়ে দেখে চোরদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু করেছে। তবে মন্দিরের পুরোহিত জিতেন্দ্র পাণ্ডে জানিয়েছেন যে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত বছর থেকে নাগাড়ে এই মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটছে। অতীতে মায়ের সোনার মঙ্গলসূত্র থেকে শুরু করে প্রণামীর সমস্ত টাকা দফায় দফায় চুরি হয়ে গেছে। বারবার এমন উপদ্রব ঠেকাতে বাধ্য হয়েই মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল, কিন্তু তাতেও চোরদের রোখা সম্ভব হয়নি। গত এক বছরে এই নিয়ে মোট তিনবার এই শীতলা মাতার মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটল, যা নিয়ে এলাকার নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।