বড়পর্দায় আসছে নতুন গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজি! সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মেগা প্রজেক্ট নিয়ে চরম উন্মাদনা

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত গোয়েন্দা চরিত্র এবার পা রাখতে চলেছে বড়পর্দায়। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নতুন ছবি ‘কুইন ভিক্টোরিয়া আর গোয়েন্দা কানাইচরণ’-এর শুভ মহরতের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে গেল এই নতুন সিনেমাটিক যাত্রার আনুষ্ঠানিক সফর। বুধবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভারতলক্ষ্মী স্টুডিয়োয় ছবির সমস্ত কলাকুশলীদের আনন্দঘন উপস্থিতিতে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছিল মহরত অনুষ্ঠানটি। আর সেই মঞ্চ থেকেই নিজের আসন্ন এই নতুন ছবি নিয়ে একের পর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ তথ্য ফাঁস করলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

পরিচালক সূত্রে জানা গিয়েছে, ছবির প্রি-প্রোডাকশন বা প্রস্তুতির কাজ অনেকদিন ধরেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চলছে। সমস্ত পরিকল্পনা ঠিকঠাক এগোলে আগামী ৮ তারিখ থেকেই ছবিটির মূল শুটিংয়ের কাজ ফ্লোরে গড়াচ্ছে। কলকাতায় একটি দীর্ঘ ও বড় শিডিউল ছাড়াও শহরের বাইরেও আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুটিং পর্ব রাখা হয়েছে। তবে বর্ষার মরসুম হওয়ায় ছবির গোটা টিমকে আবহাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কারণ এই সিনেমায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আউটডোর দৃশ্য রয়েছে, যেগুলিতে বৃষ্টির বাধা এড়াতে আগেভাগেই অতিরিক্ত কয়েকটি ‘বাফার ডে’ বা বিকল্প দিন হাতে রাখা হয়েছে। সৃজিতের স্পষ্ট দাবি, আবহাওয়ার এই ছোট্ট অনিশ্চয়তা বাদ দিলে বাকি সমস্ত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি একেবারেই ছকমাফিক এগোচ্ছে।

ছবিটির ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তরুণী অভিনেত্রী ইধিকা পালের ক্রিকেট শেখার খবরটি নিয়ে দর্শকদের মনে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনাতেই সিলমোহর দিলেন স্বয়ং পরিচালক। সৃজিত জানিয়েছেন যে এই ছবিতে ইধিকার চরিত্রের সঙ্গে ক্রিকেটের অত্যন্ত গভীর যোগ রয়েছে। তবে সেটি ছবির মূল রহস্যকাহিনির অংশ নয়, বরং চরিত্রটির ব্যাকস্টোরির একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় উপাদান। ফলে গল্পের প্রয়োজনে ক্রিকেটের দৃশ্যে ইধিকাকে যে মাঠে নেমে ব্যাট হাতে নামতেই হবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

ক্রিকেট এবং নিজের কর্মপদ্ধতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক তাঁর কাজের বিভিন্ন মজার ও কড়া নিয়মের কথাও তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে তাঁর পরিচালিত ছবিতে ক্রিকেট বা খেলাধুলো থাকলে তার প্রস্তুতিতেও কখনোই কোনো খামতি রাখা হয় না। সেই প্রসঙ্গে উঠে আসে তাঁর পরিচালিত জনপ্রিয় ছবি ‘সাবাশ মিঠু’-র শুটিংয়ের বহু পুরোনো স্মৃতির কথা। সৃজিত জানান, সেই ছবির কাজের সময় তিনি প্রতিদিন ভোর ছ’টা থেকেই নেটে গিয়ে হাজির হতেন এবং অভিনেত্রী তাপসী পান্নুও নিয়মিত কঠোর অনুশীলনে অংশ নিতেন। তাঁরা দুজনেই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করতেন, আর রঞ্জি ট্রফির স্তরের মহিলা ক্রিকেটাররা তাঁদের বল করতেন। শট মারার সময় বা আউট হওয়ার নানা মজার বাজি নিয়েও শুটিং ফ্লোরে বেশ আনন্দ চলত। পরিচালকের সরল স্বীকারোক্তি, সিনেমা, ক্রিকেট এবং সংগীত—তাঁর জীবনে এই তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার পায়।

তবে শুধু একটি ছবি তৈরি করেই থেমে থাকতে নারাজ সৃজিত মুখোপাধ্যায়। গোয়েন্দা কানাইচরণ চরিত্রটিকে ঘিরে তাঁর সুদূরপ্রসারী ও বিরাট পরিকল্পনা রয়েছে। পরিচালক জানান, কোভিডের কঠিন সময়ে তিনি প্রথম লেখক রাজর্ষি দাশভৌমিকের এই গোয়েন্দা চরিত্রটির গল্প পড়েছিলেন এবং সেই সময়ই চরিত্রটির স্বাতন্ত্র্য ও ভিন্ন স্বাদ তাঁকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছিল। পরবর্তী সময়ে লেখকের আরও বেশ কয়েকটি গল্প পড়ার পর তাঁর মনে হয়েছে যে এই চরিত্রটিকে নিয়ে খুব দীর্ঘ পথ চলা সম্ভব। ভবিষ্যতে সেই সমস্ত গল্পগুলি অবলম্বনে আরও নতুন নতুন ছবি তৈরি হতে পারে। এমনকি লেখক রাজর্ষি দাশভৌমিকের সঙ্গে যৌথভাবে সম্পূর্ণ মৌলিক নতুন গল্প লেখার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। সব মিলিয়ে পরিচালক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে গোয়েন্দা কানাইচরণকে ঘিরে বাংলা সিনেমা জগতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি ফ্র্যাঞ্চাইজি তৈরির পরিকল্পনা তাঁর মাথাতেই রয়েছে।