বাইরে থেকে তালা ঝুলছিল দরজায়! সল্টলেকের অভিজাত এলাকা থেকে উদ্ধার দম্পতির নিথর দেহ

সল্টলেকের অভিজাত এলাকায় ফের এক চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর ঘটনায় গোটা চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ও শোরগোল শুরু হয়েছে। সল্টলেকের এইই (AE) ব্লকের একটি আবাসিক বাড়ি থেকে পুলিশ এক দম্পতির রহস্যজনক জোড়া দেহ উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ির শোওয়ার ঘরের খাটের উপর থেকে সজল কুমার কুণ্ডু এবং তাঁর স্ত্রী রঞ্জনা কুণ্ডুর নিথর ও পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় তাঁদের একমাত্র ছেলেও বাড়ি ছিলেন না, যা গোটা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে বেশ কয়েকবার ফোন করেও বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁদের পুত্র। এর পরেই তিনি এক পরিচিত ব্যক্তিকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন।
পরিচত ওই ব্যক্তি বাড়িটিতে পৌঁছে দেখতে পান যে প্রধান দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। এরপর বারবার কলারিং বেল বাজালেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না মেলায় তিনি তৎক্ষণাৎ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলে বাড়ি এসে নিজেই প্রধান দরজার তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই শোবার ঘরের খাটের ওপর বাবা ও মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চাউর হতেই এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে এবং সঙ্গে সঙ্গেই বিধাননগর উত্তর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পাওয়া মাত্রই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ঘরের ভেতর থেকে একটি সন্দেহজনক বিষের বোতল উদ্ধার করেছে। এই জোড়া বোতলের সূত্র ধরেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মানসিক অবসাদ বা অন্য কোনো কারণে ওই দম্পতি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা। স্থানীয় প্রতিবেশীদের দাবি অনুযায়ী, মৃত গৃহবধূ রঞ্জনা দেবী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে লড়াই চালাচ্ছিলেন। এই শারীরিক অসুস্থতা এবং চিকিৎসার চাপ নাকি পরিবারের অন্দরে অন্য কোনো আর্থিক বা পারিবারিক টানাপড়েন ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে தீவிர তল্লাশি চালাচ্ছে।