ডাকাত ধরতে গিয়ে হদিশ মিলল ৫০ কোটির ‘গুপ্তধনে’! বীরভূমে অনুব্রত-ঘনিষ্ঠের আত্মীয়ের বাড়িতে মেগা রেড, উদ্ধার নগদ ও সোনা

বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত একটানা টাকা গুনে অবশেষে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ও সিআইডি (CID)-র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই মেগা অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি মহম্মদবাজার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পরপরই অভিযুক্তের বাড়ি সিল করে দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে মিনার মণ্ডলকে। যদিও এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের পর ধৃতের স্ত্রীর দাবি, তাঁদের বাড়িতে যে এমন কোটি কোটি টাকা লুকানো রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা ঘুণাক্ষরেও কিছু জানতেন না। তাঁদের পরিষ্কার বক্তব্য, যে নির্দিষ্ট আলমারি বা সিন্দুক থেকে এত নগদ টাকা এবং সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, সেই লকারে হাত দেওয়ার কড়া বারণ ছিল।
গোটা ঘটনাটির পেছনের চিত্রটি সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। পুলিশ সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যে, ডাকাত ধরতে গিয়েই মেলে এই ‘গুপ্তধনের’ আসল হদিশ। মূলত অপরাধীদের একটি দল মিনারের বাড়িতে প্রচুর পরিমাণে টাকা ও সোনা রয়েছে বলে গোপন খবর পায় এবং সেই সূত্র ধরেই সেখানে বড়সড় ডাকাতির ছক কষেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় সেই ছক মাঝপথেই বানচাল হয়ে যায়। এরপর ধৃত ডাকাতদের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করতেই রহস্যের পর্দাফাঁস হয় এবং পুলিশ সোজা গিয়ে হানা দেয় টুলু মণ্ডলের এই আত্মীয়ের ঠিকানায়। আর সেখানেই মিলল আস্ত ‘যকের ধন’।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত মিনার মণ্ডল পেশায় একজন স্বেচ্ছাবসরপ্রাপ্ত সরকারি বাস চালক। বীরভূমের প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী তথা অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তিনি। গত বুধবার সকালেই মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ও সিআইডির তদন্তকারী দল একেবারে আকস্মিক অভিযান চালায় মহম্মদবাজারের একটি নির্জন এলাকায় অবস্থিত ওই বাসচালকের বাড়িতে। দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। টানা তল্লাশিতে উদ্ধার হয় নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনার বাট, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২২ কোটি টাকারও বেশি। সব মিলিয়ে নগদ ও সোনা মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে চলা এই ম্যারাথন তল্লাশির শেষ পর্যায়ে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা ট্রাঙ্কে ভরার কাজ চলে এবং সেই টাকা পরিবহণের জন্য স্পেশাল পিকআপ ভ্যান পর্যন্ত আনা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীদের অনুমান, বীরভূমের বিভিন্ন পাথর খাদানে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ রাজস্ব দুর্নীতি এবং বেআইনি কারবারের কালো টাকাই এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির প্রধান উৎস। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে একজন সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত বাসচালকের ঘরে এত পরিমাণ অর্থ এল কী করে? এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র বা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। আপাতত গোটা ঘটনায় বীরজুমে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।