সৃজিতের পরিচালনায় বড় পর্দায় আসছে ‘কুইন ভিক্টোরিয়া আর গোয়েন্দা কানাইচরণ’, মহরতে ফাঁস ইধিকার গোপন প্রস্তুতি!

লেখক রাজর্ষি দাশভৌমিকের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রকে এবার বড় পর্দায় সম্পূর্ণ নতুন এক রূপ দিতে চলেছেন খ্যাতনামা পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশনায় তৈরি হতে চলা এই নতুন ছবি ‘কুইন ভিক্টোরিয়া আর গোয়েন্দা কানাইচরণ’-এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হলো। বুধবার ভারতলক্ষ্মী স্টুডিয়োতে বর্ণাঢ্য এক শুভ মহরতের মধ্য দিয়ে এই বহুচর্চিত সিনেমার যাত্রা শুরু হলো। আর এই বিশেষ মহরত অনুষ্ঠানেই মিডিয়ার সামনে এসে ধরা দিলেন ছবির অন্যতম প্রধান মুখ তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইধিকা পাল। নতুন ছবি, নতুন পরিচালক এবং একদম নতুন ঘরানার চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে তাঁর মনের ভেতরে যেমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও আনন্দ কাজ করছে, তেমনই স্পষ্ট টের পাওয়া গেল তাঁর নার্ভাসনেস বা উত্তেজনার ছাপও।

জানা গেছে, এই ছবিতে ইধিকাকে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে, যার নিখুঁত রূপদানের জন্য তাঁকে প্রথাগতভাবে ক্রিকেট খেলাও শিখতে হয়েছে। তবে চরিত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা সমস্ত প্রস্তুতি ও রহস্যের ব্যাপারটি এখনই পুরোপুরি ভেঙে বলতে নারাজ তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাসতে হাসতেই ইধিকা বলেন, “আমার সর্বকালের প্রিয় ক্রিকেটার এম এস ধোনি। আর এই চরিত্রের জন্য আমি ঠিক কী কী নতুন জিনিস শিখেছি, তা ছবি মুক্তির পর যখন দর্শকরা বড় পর্দায় দেখবেন, তখনই সবকিছু পরিষ্কার বুঝতে পারবেন।” তবে পর্দার এই গোপনীয়তার পাশাপাশি নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থা নিয়ে তিনি অকপট স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন। ইধিকা জানিয়েছেন যে এই ছবিটিকে কেন্দ্র করে তাঁর অন্তরে ভীষণ টেনশন কাজ করছে, যার প্রধান কারণ খোদ পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। খোলামেলা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই ভীষণ নার্ভাস। আসলে এই ছবিটা নিয়ে একটা আলাদা মানসিক চাপ ও দায়িত্ববোধ কাজ করছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সৃজিতদাই আমার অভিভাবক ও কোচ।”

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এই ছবির হাত ধরেই প্রথমবার পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় কাজ করার সুযোগ পেলেন ইধিকা পাল। শুধু তাই নয়, তাঁর অভিনয় জীবনের খাতার প্রথম সাসপেন্স-থ্রিলার ঘরানার ছবিও এটিই। যদিও থ্রিলারধর্মী গল্পের প্রতি তাঁর বরাবরই একটা আলাদা দুর্বলতা ও পছন্দ রয়েছে। নিজের ভালো লাগার কথা প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে থ্রিলার বিষয়টাই খুব বেশি পছন্দ করি। তার ওপর আবার এটি একটি পিরিয়ডিক্যাল ছবি। এমন একটি চমৎকার কাজের সুযোগ পাওয়া এবং একই সঙ্গে পরিচালক হিসেবে সৃজিতদাকে পাশে পাওয়া—সব মিলিয়ে এটি আমার জীবনের সত্যিই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।”

পর্দায় রোমাঞ্চকর রহস্যের গল্পে অভিনয় করলেও, বাস্তব জীবনেও কি তাঁর মধ্যে কোনো গোয়েন্দাসুলভ কৌতূহল বা স্বভাব রয়েছে? এমন প্রশ্ন শুনেই মিষ্টি হেসে ইধিকা উত্তর দিলেন, “আমার মধ্যে অনেকটা গোয়েন্দাসুলভ কৌতূহল কাজ করে।” এরপর জানতে চাওয়া হয় যে তিনি পেটে কথা চেপে রাখতে পারেন কি না? এই প্রশ্নের জবাবও অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই দিয়েছেন অভিনেত্রী—”ভীষণভাবে পারি।”

উল্লেখ্য, রাজর্ষি দাশভৌমিকের জনপ্রিয় সাহিত্যসৃষ্টিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হতে চলা এই ছবিতে ইধিকা পালের পাশাপাশি অভিনয় জগতের একঝাঁক শক্তিশালী ও প্রবীণ অভিনেতাকে দেখা যাবে। এই তালিকায় রয়েছেন টোটা রায়চৌধুরী, সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, সুমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং অনুজয় চট্টোপাধ্যায়ের মতো দক্ষ শিল্পীরা। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মুন্সিয়ানায় রহস্য, নিখুঁত সময়ের পিরিয়ডিক্যাল আবহ এবং শক্তিশালী কাস্টের সমন্বয়ে তৈরি এই ছবিকে ঘিরে ইতিমধ্যে সিনেপ্রেমী দর্শকদের কৌতূহল চরমে পৌঁছেছে। আর ইধিকার মুখেও সেই কৌতূহল জিইয়ে রাখার ইঙ্গিত স্পষ্ট—তিনি পর্দার জন্য কী কী নতুন কায়দা শিখেছেন, তার আসল উত্তর মিলবে একমাত্র বড় পর্দাতেই।