পড়াশোনার পাশাপাশি তাক লাগালেন মেদিনীপুরের তরুণী! শখের বশে করা এই কাজই আজ এনে দিচ্ছে মোটা টাকা

গিফট বা উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান দিনে মানুষের রুচি ও ভাবনায় এসেছে বিরাট পরিবর্তন। চিরাচরিত ছাঁচে গড়া জিনিস ছেড়ে মানুষ এখন বেশি ঝুঁকছে হাতে তৈরি নানা ধরনের আকর্ষণীয় হ্যান্ডিক্র্যাফ্ট এবং লিপন আর্টের দিকে। উপহারে যদি থাকে শৈল্পিক ছোঁয়া, তবে তার কদরই আলাদা। আধুনিক গ্রাহকদের এই ট্রেন্ডকেই নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ ব্লকের কেদার এলাকার বাসিন্দা স্মৃতিলেখা আচার্য্য। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এই তরুণী নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে আজ এলাকার বহু যুবতীর কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।

আজকাল ছোট থেকে বড়—সবার মাঝেই হ্যান্ডমেড বা হস্তশিল্পের জিনিসের চাহিদা আকাশছোঁয়া। গ্রাহকদের এই চাহিদাকে মাথায় রেখেই স্মৃতিলেখা নিজের ঘরে বসে তৈরি করছেন চোখধাঁধানো সব শিল্পকর্ম। ছোট্ট মিনি ক্যানভাস থেকে শুরু করে বড় ক্যানভাস, সব জায়গাতেই তাঁর তুলির জাদুকরী টান যে কাউকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। সাদা কাগজের নিখুঁত পোট্রেট ছাড়াও কাঁচ ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে চমৎকার সব ক্রিয়েশন। পাশাপাশি ম্যুরাল আর্ট এবং মাটির তৈরি ক্লে পেন্টিংয়েও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় দাদার কাছে ছবি আঁকার হাতেখড়ি হওয়া স্মৃতিলেখা বর্তমানে গৃহশিক্ষকতার পাশাপাশি নিজের অবসর সময়কে অত্যন্ত সৃজনশীলভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কাস্টমাইজড উপহার বা মাটির তৈরি সুন্দর সুন্দর হ্যান্ডমেড জুয়েলারিও তৈরি করছেন তিনি, যেগুলোর অফলাইন ও অনলাইন—উভয় বাজারেই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে নিজের প্রতিভাকে সম্বল করে আয়ের যে নতুন পথ তিনি তৈরি করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।