নিট দুর্নীতিতে মোদীর পদত্যাগ দাবি! প্রধানমন্ত্রীকে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হওয়ার কটাক্ষ সিজেপির অভিজিৎ দিপকের

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক এবং দেশজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চরম আক্রমণ করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, দেশ চালানোর দায়িত্ব থেকে সরে এসে তাঁর এবার পুরোদমে একজন ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হয়ে যাওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর মহারাষ্ট্রে নিজ বাসভবনে ফিরে এসেই কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন এই সিজেপি নেতা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তার তীব্র সমালোচনা করে অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর এখন পাকাপাকিভাবে একজন ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। কারণ তিনি ভিডিওতে সত্যিই খুব ভালো কাজ করছেন। ওঁর এবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সরে দাঁড়ানো উচিত, যাতে অন্য কোনো যোগ্য নেতা দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সঠিকভাবে সামলাতে পারেন।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, দেশজুড়ে আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হলেও বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হেনস্থা করছে। সরকারের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, আন্দোলন স্থগিত হওয়া মানেই জনগণের ক্ষোভের অবসান নয়।

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও ছররা গুলি চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করে দিপকে বলেন, “প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মাত্র ৩ দিনের মাথায় আদালতের প্রথম শুনানিতেই সিবিআই-এর আইনজীবী অনুপস্থিত ছিলেন, যার ফলে মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল। এটাই কি সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার নমুনা?”

পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন। তাঁর সাফ কথা, “ছাত্রছাত্রীরা কোনো জঙ্গি বা অপরাধী নয়, তারা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। যেভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছে, সরকার যদি এখনও সঠিক পথে না হাঁটে, তবে আগামী দিনে আমরা সরাসরি সরকার বদল করার জায়গায় পৌঁছে যাব। প্রয়োজনে এর চেয়েও অনেক বড় মাপে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

এদিকে, আন্দোলন তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়া আটকাতে কোমর বেঁধে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরে ইতিমধ্যে বিশাল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যাতে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কোনোভাবেই পা রাখতে না পারে, তার জন্য রাস্তার দু’পাশের বিশাল সব ধাতব ব্যারিকেডগুলো একে অপরের সঙ্গে লোহা দিয়ে ওয়েল্ডিং করে পুরোপুরি জোড়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সিজেপি (CJP)। পুলিশি অত্যাচারে বা মিথ্যা মামলায় যাঁরা ফেঁসে গিয়েছেন, তাঁদের আইনি সহায়তা দিতে ‘SAAKSHI’ নামের একটি নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং দেশব্যাপী লিগ্যাল এইড সেল চালু করা হয়েছে। এই আইনি লড়াইকে শক্তিশালী করতে প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল ১ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল (Fund) দেওয়ার বড় ঘোষণা করেছেন।