প্রেমের গুঞ্জনের মাঝেই বড় ধাক্কা! ব্যক্তিগত জীবনে চরম বিপর্যয় ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা সোহম

একদিন আগেই টলিউড পাড়ায় প্রেমের সম্পর্কে ভাঙন ও দূরত্বের গুঞ্জন নিয়ে তৈরি হয়েছিল শোরগোল। আর ঠিক তার পরেরদিনই নিজের পরিবার ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম মজুমদার (‘কবীর সিং’, ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মোটি’ খ্যাত)। বিগত প্রায় আড়াই বছর ধরে টলিউডের অন্দরে কান পাতলে শোনা যেত অভিনেত্রী শোলাঙ্কি রায়ের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়েছেন সোহম। যদিও প্রকাশ্যে কখনোই এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি তাঁরা, নিজেদের সবসময় ‘ভালো বন্ধু’ বলেই দাবি করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শোলাঙ্কি রায়ের নিজেকে ‘সিঙ্গল’ বলে ঘোষণা করা একটি পোস্ট সামনে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। ঠিক তার পরেই প্রকাশ্যে এল বিগত দুই মাস ধরে অভিনেতা ও তাঁর পরিবারের ওপর দিয়ে যাওয়া এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মর্মান্তিক চিত্র।

বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরপর চারটি ছবি শেয়ার করেন সোহম মজুমদার। যার মধ্যে একটি ছবিতে তাঁকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে একটি দীর্ঘ নোটে অভিনেতা লেখেন, “গত দু’মাস আমার এবং আমার পরিবারের জন্য এক অত্যন্ত কঠিন ও ঘটনাবহুল সময় ছিল। সাধারণত আমি এসব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না, কারণ শোক সবসময়ই অত্যন্ত ব্যক্তিগত। তবে এবার মনে হলো, কথাগুলো ভাগ করে নিলে মন কিছুটা হালকা হবে, কারণ শোক সামলানোর প্রক্রিয়াটা তো আর সবসময় সরলরেখায় চলে না।”

নিজের পোস্টের বিশদে গিয়ে সোহম জানান, “সবকিছুর শুরুটা হয়েছিল আমার দাদুর (মায়ের বাবা) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। তাঁর চলে যাওয়া পরিবারে যে কত বড় শূন্যতা তৈরি করেছে, তা বলে বোঝানো যায় না। এর পরপরই আমার অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ঠাকুমা (বাবার মা)—যিনি সপ্তাহে দুবার ডায়ালিসিস নিয়ে বেঁচে আছেন—তাঁকে নিয়ে তীব্র দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এই সবকিছুর মাঝে আমার নিজেরও একটি ছোটখাটো অস্ত্রোপচার হয়েছে, যেখান থেকে আমি এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছি।”

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে অভিনেতা লেখেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের রাঁধুনি মৌসুমী দি-র আকস্মিক মৃত্যু আমাদের ভেঙে দিয়েছিল। তিনি আমাকে বড় হতে দেখেছেন এবং আজকের আমি হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিল। অথচ মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। একদিন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন, আর পরদিনই তিনি আর নেই। এই আকস্মিক ধাক্কাগুলো আমার মা এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের পুরো পরিবারের ওপর দিয়ে যে কতটা মানসিক ধকল বয়ে নিয়ে গেছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।”

জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে সোহম জানান, “এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়ে আমি একটি বড় শিক্ষা পেয়েছি—আর তা হলো, নিজের চারপাশে একটি শক্তিশালী ‘সাপোর্ট সিস্টেম’ বা সহায়তাকারী দল গড়ে তোলা ভীষণ জরুরি। কারণ জীবনটা অত্যন্ত অনিশ্চিত। আমার মা-ই আমার গোটা পৃথিবী। সেই সঙ্গে আমার সেই সব বিশেষ বন্ধুদেরও ধন্যবাদ জানাই, যারা এই দুঃসময়ে আমার পাশে শক্ত হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। আপনারা আমার জন্য যা করেছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।”

অন্যদিকে, এই সমস্ত ঘটনার ঠিক একদিন আগেই অর্থাৎ বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে ‘সিঙ্গল’ বলে ঘোষণা করেন অভিনেত্রী শোলাঙ্কি রায়। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘লোকজন জিজ্ঞেস করে তুমি সিঙ্গল কেন? আমি বলি, আমার মনে হয় আমি অতিরিক্ত কোয়ালিফায়েড।’ প্রসঙ্গত, ২০২৪ সাল থেকেই টলিউডে সোহম ও শোলাঙ্কির প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও তাঁরা বরাবরই এই চর্চাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, শোলাঙ্কি রায় এর আগে শাক্য বসুকে বিয়ে করলেও ২০২৩ সালে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপরই অভিনেতা সোহম মজুমদারের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল।