গোরখপুরে ১০ বছরের বালিকাকে অপহরণ করে খুন! ডায়াল-১১২-র কনস্টেবল গ্রেপ্তার হতেই চাঞ্চল্য

উত্তর প্রদেশের গোরখপুর জেলা থেকে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ১০ বছর বয়সি এক বালিকাকে অপহরণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ডায়াল-১১২ (Dial-112)-এ কর্মরত অভিষেক যাদব নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার চিউতাহা সেতুর নিকটবর্তী নদী থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার মূলত আজমগড়ের কাপ্তানগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হলেও গত চার বছর ধরে গোরখপুরের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছে। শিশুটির বাবা জীবিকা নির্বাহের জন্য ই-রিকশা চালান। তাঁর ১৩ বছর বয়সি বড় মেয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। গত ২৮ জুলাই রাতে আনুমানিক দশটা নাগাদ ১০ বছরের ছোট মেয়েটি বড় বোনের জন্য রাতের খাবার নিয়ে জেলা হাসপাতালে যায়। হাসপাতালে খাবার পৌঁছে দিয়ে সে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সন্দেহ হয়। পরিজনরা প্রথমে নিজেদের মতো করে খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান না পেয়ে অবশেষে স্থানীয় থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশের জালে অভিযুক্ত:
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ হাসপাতাল ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে। ফুটিয়ে দেখা যায়, শিশুটি পায়ে হেঁটে হাসপাতাল চত্বর থেকে বের হচ্ছে এবং ঠিক তখনই পুলিশের একটি মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। বাইকের নম্বর প্লেট ট্র্যাক করে পুলিশ সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে যে বাইকটি চালাচ্ছিল ডায়াল-১১২-এর কনস্টেবল অভিষেক যাদব। এরপর বুধবার গভীর রাতে তাকে আটক করে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে নাবালিকাকে হত্যা করে নদী মরদেহ ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পূর্বেও ধর্ষণ মামলায় জেল খেটেছিল অভিযুক্ত:
পুলিশি তদন্তে এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত অভিষেক যাদব মূলত উত্তর প্রদেশের গাজিপুর জেলার বাসিন্দা। এর আগেও সে একটি পকসো বা ধর্ষণ মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করেছিল এবং সেই সূত্রে অতীতে সে সাসপেন্ডও হয়েছিল। পুলিশ বর্তমানে তার সামগ্রিক অপরাধমূলক অতীত এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে বিচার ও কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস এসএসপির:
গোরখপুরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) জানিয়েছেন যে, মৃতার বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজের ওপর ভিত্তি করেই অভিযুক্তকে দ্রুত পাকড়াও করা হয়েছে। তদন্তে এও ইঙ্গিত মিলেছে যে অভিযুক্তের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল এবং শিশুটি তার প্রতিবাদ বা বাধা দেওয়ায় সে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অন্যান্য দিকগুলো স্পষ্ট হবে।
এসএসপি সাফ জানিয়েছেন যে, এই হাই-প্রোফাইল মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে (Fast Track Court) শুনানি হবে। ইতিমধ্যেই তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার জন্য বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-সহ প্রচলিত কঠোর আইনি বিধান প্রয়োগ করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, একমাত্র সন্তানের এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর খবরে গোটা পরিবার শোকে পাথর হয়ে গেছে এবং আত্মীয়-স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো ভাষা নেই।