ফেয়ারনেস ক্রিম আর ক্যাপসুল খেয়ে ফর্সা হন উত্তম কুমার? নাতনি নবমিতার মন্তব্যে চরম বিতর্ক

বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উত্তম কুমার কেবল একজন প্রথম সারির অভিনেতা নন, তিনি চিরকালীন বাঙালির আবেগ ও রোমান্সের অন্যতম নাম। যুগের পর যুগ অতিক্রান্ত হলেও রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আজও একই রকম অমলিন। রুপোলি পর্দায় তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্ব, সাবলীল অভিনয় এবং অমলিন ক্যারিশ্মা এখনও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দর্শকদের সমানভাবে মুগ্ধ করে চলেছে। তবে সম্প্রতি এই মহানায়ককে কেন্দ্র করেই এক তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন স্বয়ং উত্তম কুমারের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায়।

সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় পডকাস্ট শো-তে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন নবমিতা। কথাপ্রসঙ্গেই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার সিংহভাগ স্থান জুড়ে ছিল তাঁর প্রখ্যাত দাদু উত্তম কুমারকে নিয়ে শৈশবের নানা অজানা স্মৃতি ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা। সেই সাক্ষাৎকারেই তিনি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসেন। নবমিতা জানান যে, ছোটবেলায় মহানায়ক উত্তম কুমারের গায়ের রঙ নাকি বেশ শ্যামবর্ণ বা কালো ছিল।

পডকাস্টে নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্ত তুলে ধরে নবমিতা বলেন, “আমি এই কথাটা বললে হয়ত আজ কেউ সহজে বিশ্বাস করতে চাইবেন না। কিন্তু বাস্তব এটাই যে দাদু ছোটবেলায় ভীষণ কালো ছিলেন। আমার কাছে ওঁর সেই সময়ের কিছু বিরল পুরনো ছবিও সযত্নে রাখা আছে। পরবর্তীকালে গায়ের রঙ উজ্জ্বল করতে তিনি বিভিন্ন বিশেষ ক্রিম ব্যবহার করেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে কিছু ক্যাপসুল খেয়ে নিজের ত্বকের নিবিড় যত্ন নিয়েছিলেন।”

নাতনি নবমিতার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। উত্তমের অসংখ্য ভক্ত ও নেটিজেনরা নবমিতার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, মহানায়কের জনপ্রিয়তা কখনও রূপ বা গায়ের রঙের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। এক ক্ষুব্ধ নেটিজেন লিখেছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কেবল ভিউ ও সস্তা প্রচার পাওয়ার জন্য নিজের দাদুকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা অনুচিত।” অন্য একজন লিখেছেন, “উত্তম কুমারের আসল শক্তি ছিল তাঁর অনবদ্য অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব, কোনো প্রসাধনী নয়।” সব মিলিয়ে মহানায়ককে ঘিরে বাঙালির আবেগ যে আজও কতটা স্পর্শকাতর, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়েই পুনরায় প্রমাণিত হলো।