শিলিগুড়িতে বেআইনি নির্মাণ ও সিন্ডিকেটের রাজত্বে কোপ! কড়া পদক্ষেপের হুশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ

শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকার সামগ্রিক নাগরিক সমস্যা, বেআইনি নির্মাণ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। বুধবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গজিয়ে ওঠা নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন, যত্রতত্র বেআইনি হোর্ডিং এবং যাত্রী নিরাপত্তার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন।
মন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে শিলিগুড়ি শহরে ব্যাপক হারে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। আবাসন বা রেসিডেন্সিয়াল পারমিশন নিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার, পার্কিং স্পেস বিক্রি ও অপব্যবহার এবং অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে বহুতল নির্মাণের অসংখ্য অভিযোগ সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই চারতলা ভবনের অনুমতি নিয়ে পাঁচতলা বা তার বেশি নির্মাণ করা হয়েছে কিংবা প্ল্যানের শর্ত উপেক্ষা করা হয়েছে। নগরোন্নয়ন দফতর এবং সরকারের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই সমস্ত জালিয়াতির বিশদ পর্যালোচনা করে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা, সরকারি আধিকারিক বা প্রমোটার—যারাই দোষী প্রমাণিত হবেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী।
নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আবাসন কেনাবেচা বা দখলের ক্ষেত্রে বসবাসযোগ্যতার ‘অক্যুপেন্সি সার্টিফিকেট’ (Occupancy Certificate) দেখা বাধ্যতামূলক। এটি ছাড়া যেন কেউ কোনো ফ্ল্যাট বা ভবন কেনাবেচা না করেন।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজনৈতিক রং দেখে দুর্নীতির বিচার হবে না এবং কেউ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আড়ালে নিজের অপরাধ ঢাকতে পারবে না। প্রমোটারদের বিরুদ্ধে প্রতারণার নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে নাগরিকদের সরাসরি থানায় এফআইআর দায়ের করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
বহুতল দুর্নীতির পাশাপাশি শহরজুড়ে ফুটপাত জবরদখল, যত্রতত্র অনুমোদনহীন হোর্ডিং বসিয়ে পুরনিগমের রাজস্ব তছরুপ এবং যত্রতত্র চিকিৎসা ও বৈদ্যুতিন বর্জ্য ফেলার প্রবণতা নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, অবৈধ হোর্ডিংয়ের কারণে পুরনিগম বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শহরের সৌন্দর্য ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা রক্ষায় এই সমস্ত বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। সম্প্রতি শিলিগুড়ি-কলকাতা রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার বিলাসবহুল ভলভো বাসগুলিতে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা সামনে আসায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাস মালিকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই তিনি বিষয়টি অবিলম্বে উত্তরবঙ্গের আইজি-র নজরে আনেন। পুলিশের দ্রুত ও তৎপর পদক্ষেপে কালিয়াগঞ্জ থেকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট সাতজন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এই কার্যকারিতার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা ও সম্মান পেলে পুলিশ যে কোনো অপরাধ কঠোর হাতে দমন করতে সক্ষম।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ও সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য রাজ্য সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী:
কাটমানির অভিযোগ জানাতে: 155334
বেআইনি শুল্ক আদায়ের বিরুদ্ধে: 155337
বেআইনি মদ ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে: 155339
বেআইনি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে: 155335
এছাড়াও, সাধারণ নাগরিকদের নিজের বিধানসভা এলাকার যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঠিক তথ্য পেতে সরাসরি তাঁর বিধানসভা সেবা কেন্দ্রে আসার আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।