ভোলানাথের কৃপা পেতে শ্রাবণে লাগান এই ৫ বিশেষ গাছ! বদলে যেতে পারে আপনারও ভাগ্য

শ্রাবণ মাস (Sawan Month) মানেই কি কেবল উপোস করে শিবের মাথায় জল ঢালা? একেবারেই তা নয়! পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় উৎপন্ন মারাত্মক বিষ নিজের কণ্ঠে ধারণ করে বিশ্বসংসারকে রক্ষা করেছিলেন মহাদেব। সেই গরল বা বিষের তীব্র জ্বালায় যখন তাঁর কণ্ঠ নীল তথা লাল হয়ে উঠছিল, তখন দেবতারা ঘটি ঘটি ঠান্ডা জল ও গঙ্গাধারা ঢেলে ভোলেনাথকে শান্ত করেছিলেন। বিশ্বাস করা হয়, সেই স্বস্তির সময়টিই ছিল এই শ্রাবণ মাস। এও বিশ্বাস করা হয় যে, এই পবিত্র মাসে মহাদেব মর্ত্যেই অবস্থান করেন এবং ভক্তদের দুহাত ভরে আশীর্বাদ প্রদান করেন।
তবে শুধুমাত্র শিবলিঙ্গে জল ঢালাই নয়, এই সময়ে প্রকৃতিও নতুন রূপ ধারণ করে। শাস্ত্রীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রাবণ মাসে মহাদেবের কৃপা এবং বাস্তুর ম্যাজিক একসঙ্গে পেতে ঘরের আশেপাশে ৫টি বিশেষ গাছ রোপণ করা অত্যন্ত শুভ। এর ফলে মন শান্ত হয়, পরিবারের সকলে সুস্থ থাকে এবং বন্ধ থাকা ভাগ্যের দরজাও খুলে যায়।
সংসারে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনতে শ্রাবণ মাসে যে গাছগুলি রোপণ করা প্রয়োজন, তা দেখে নিন:
১. তুলসী গাছ:
বাঙালির ঘরে ঘরে তুলসী গাছে জল নিবেদন করার রীতি অতি প্রাচীন। তবে শ্রাবণ বা কার্তিক মাসে এই গাছ লাগানো অত্যন্ত ফলদায়ক। গাছটিকে ঘরের একদম মাঝখানে বা উঠোনে স্থাপন করা উচিত। এর প্রভাবে সংসারের অমঙ্গল ও অশান্তি দূর হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মধুর হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে তুলসী গাছ প্রদক্ষিণ করলে ঘরে পজিটিভ এনার্জি বা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি করে তুলসী পাতা সেবন করলে বুদ্ধিমত্তা বাড়ে এবং শিশুদের নানা শারীরিক সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে।
২. কলা গাছ:
শ্রাবণের যেকোনো বৃহস্পতিবার কিংবা একাদশী তিথিতে কলা গাছ রোপণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। তবে মাথায় রাখবেন, কলা গাছ ভুলেও বাড়ির সামনে লাগাবেন না, এটি সর্বদা বাড়ির পিছনের দিকে রোপণ করা উচিত। নিয়ম করে এই গাছে জল দিলে এবং পুজো করলে বিবাহ সংক্রান্ত যাবতীয় বাধা কেটে যায়। যাঁদের কোষ্ঠীতে বৃহস্পতি গ্রহ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, তাঁদের ভাগ্যও নিমেষে বদলে যেতে পারে।
৩. ডালিম বা বেদানা গাছ:
বাড়ির মূল দরজার ঠিক সামনে না রেখে একটু পাশে বা সামান্য দূরত্বে একটি ডালিম গাছ লাগান। এটি বাড়িকে যেকোনো কুনজর বা নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা করে। আপনার জীবন যদি জটিল সমস্যায় ঘিরে থাকে, তবে ডালিমের ফুল মধুতে ডুবিয়ে জলে ভাসিয়ে দিন, এতে জীবনের সমস্ত বাধা কেটে যাবে বলে জানাচ্ছেন বাস্তুবিদ ও শাস্ত্রকাররা।
৪. শমী গাছ:
শনিদেবের কৃপা লাভ করতে এবং জীবনের সমস্ত বাধা-বিঘ্ন কাটাতে শমী গাছের তুলনা মেলা ভার। শ্রাবণের যেকোনো শনিবারে সন্ধ্যায় বাড়ির মূল দরজার বাঁ দিকে এই গাছ রাখা উচিত। প্রতি শনিবারে এই গাছের গোড়ায় সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালালে সংসারে আর্থিক অনটন দূর হয় এবং সমস্ত বাধা দূর হতে থাকে।
৫. অশ্বত্থ গাছ:
এই গাছ অত্যন্ত পবিত্র হলেও ভুলেও কখনও ঘরের ভেতরে বা অন্দরে রোপণ করবেন না। সর্বদা ঘরের বাইরে, রাস্তার পাশে কিংবা কোনো ফাঁকা স্থানে অশ্বত্থ গাছ লাগানো উচিত। শ্রাবণের যেকোনো বৃহস্পতিবার এটি রোপণ করা যেতে পারে। অশ্বত্থ গাছের পুজো করলে সন্তান সংক্রান্ত নানা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া শনিবার এই গাছের নিচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালালে শনির সাড়েসাতি বা ধাইয়ার দশা থেকে শান্তি মেলে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এখানে পরিবেশিত সমস্ত তথ্য প্রচলিত লোকবিশ্বাস, পৌরাণিক কাহিনি এবং সাধারণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত প্রমাণ নেই। যেকোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা বাস্তু পরামর্শ মেনে চলার পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।