প্রশ্নফাঁস রোধে ঐতিহাসিক ও কঠোর আইন! লোকসভায় পাশ ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’

দেশজুড়ে লাগাতার প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ দুর্নীতির মতো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ কঠোর হাতে দমনে আরও এক ধাপ এগিয়ে ঐতিহাসিক আইনি পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। গত বুধবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পাশ হয়ে গেল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। এই নতুন ও অত্যন্ত কঠোর আইনে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত জেলের সাজা এবং ৫০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকারও বেশি পর্যন্ত বিপুল আর্থিক জরিমানার কড়া নিদান রাখা হয়েছে। তবে এই বিল পাশ হওয়াকে কেন্দ্র করে এদিন সংসদ চত্বরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংঘাত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়।

রাহুল বনাম কেন্দ্র সংঘাত ও জিতেন্দ্র সিংয়ের কড়া জবাব:
বুধবার লোকসভায় এই বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় গত ২০ জুলাইয়ের ছাত্র বিক্ষোভ এবং পুলিশের বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শোনান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল যে, সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই নাকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। রাহুলের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরেই তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন শাসক দলের সমস্ত সাংসদরা। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই অভিযোগকে অত্যন্ত ভিত্তিহীন ও গুরুতর আখ্যা দিয়ে রাহুলের কাছে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জোরালো দাবি তোলেন।

এর পালটা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুলের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। তিনি সাফাই দিয়ে জানান যে, পুলিশি গুলিবর্ষণের মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার একচ্ছত্র ও আইনি অধিকার একমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, কোনো মন্ত্রীর নেই। পাশাপাশি, রাহুল গান্ধী রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ব ও জনজীবনে অনভিজ্ঞ বলেও কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের তীব্র হট্টগোল ও প্রতিবাদের মাঝেই শেষ পর্যন্ত ধ্বনিভোটে লোকসভায় বিলটি পাশ হয়ে যায়। বর্তমানে উচ্চকক্ষ বা রাজ্যসভায় পাসের অপেক্ষায় থাকা এই নতুন সংশোধিত বিলে পেপার লিক বা প্রশ্নফাঁস রোধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের জোরালো প্রস্তাব রাখা হয়েছে।