পাহাড়ের কোলে রিলস নয়, এবার সরাসরি রিয়্যাল লাইফে খুঁজুন ভাইরাল ‘মুসাফির ক্যাফে’! কোথায় জানেন?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতা খুললেই গত বেশ কিছুদিন ধরে তরুণ প্রজন্মের ফিড দখল করে রেখেছে একটিমাত্র নাম— ‘মুসাফির ক্যাফে’। জেন জি থেকে শুরু করে মিলেনিয়াল প্রজন্ম, সকলের মনেই অদ্ভুত জায়গা করে নিয়েছে সুধা, চন্দ্র এবং প্রীতির এই আবেগঘন গল্প। দিভ্য প্রকাশ দুবের জনপ্রিয় হিন্দি উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং রুচিরা অরুণ পরিচালিত এই ওয়েব সিরিজে বেদিকা পিন্টো, বিক্রান্ত ম্যাসি এবং মহিমা মাকওয়ানার অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। সিরিজের জনপ্রিয়তার জেরে এখন নেটপাড়ায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, পর্দায় দেখানো জাদুকরী এই ‘মুসাফির ক্যাফে’ কি আদতে বাস্তবেও কোথাও আছে? নাকি পুরোটাই সেট বা কাল্পনিক? পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের জন্য রয়েছে এক দারুণ সুখবর। কারণ পর্দার সেই কাল্পনিক ক্যাফে বাস্তবেও রয়েছে এবং সেখানে চাইলেই আপনিও গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন বা রাত কাটাতে পারবেন।

পর্দায় যদিও এই ক্যাফেকে উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে অবস্থিত বলে দেখানো হয়েছে, তবে বাস্তবে এই জায়গার আসল নাম কিন্তু ‘মুসাফির ক্যাফে’ নয়। এটি পর্যটকদের কাছে ‘ঝাড়িপানি ক্যাসেল’ নামে পরিচিত, যা মুসৌরির মনোরম ঝাড়িপানি অঞ্চলেই অবস্থিত। সিরিজটিতে এটিকে নিছক একটি ক্যাফে হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বাস্তবে এটি একটি চোখ জুড়ানো হেরিটেজ হোমস্টে। ব্রিটিশ আমলের এক অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক প্রপার্টিকে অত্যন্ত যত্নসহকারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সংস্কার করে এই হোমস্টে তৈরি করা হয়েছে। তাই যাঁদের আগামী দিনে উত্তরাখণ্ড তথা মুসৌরি ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তারা নিজেদের ট্রিপের তালিকায় অনায়াসেই এই ঐতিহাসিক ঝাড়িপানি ক্যাসেলকে যুক্ত করতে পারেন। ১৯৩২ সালে এই ঐতিহাসিক ভবনটি তৈরি করেছিল ‘ক্রাউন ব্রিউওয়ারিজ’। সেই কারণেই এখানে পা রাখলেই পর্যটকরা ব্রিটিশ আমলের আভিজাত্য এবং ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের এক অদ্ভুত নস্টালজিক আমেজ বা ফিল অনুভব করতে পারবেন।

ঐতিহাসিক এই প্রপার্টি সূত্রে জানা যায়, সূচনালগ্নে এটি একটি গেস্ট হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে মূলত ব্রিটিশ জমানার সেনা আধিকারিক ও উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ অফিসাররা এসে থাকতেন। পরবর্তী সময়ে হাতবদল হতে হতে বর্তমান সময়ে এটি একটি বিলাসবহুল হেরিটেজ হোমস্টে হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে এই নান্দনিক প্রপার্টির দেখভাল করছেন মিস্টার অ্যান্ড মিসেস বহরি। এখন প্রশ্ন হলো, ঐতিহাসিক এই ঝাড়িপানি ক্যাসেলের কামরাগুলিতে এক রাত কাটাতে পর্যটকদের পকেট থেকে ঠিক কত টাকা খরচ হতে পারে? পর্যটক ও ট্রাভেল ব্লগারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে থাকার জন্য প্রতি রাতের রুম ভাড়া শুরু হয় প্রায় ৬,৪00 টাকা থেকে এবং রুমের ধরন ভেদে তা সর্বোচ্চ ২৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই হোমস্টেতে ডিলাক্স রুম, সেমি ডিলাক্স রুম, বিলাসবহুল ভিলা স্যুট, স্পেশাল স্যুট এবং প্রিমিয়াম লগহাটের মতো একাধিক দারুণ অপশন পেয়ে যাবেন পর্যটকরা। সবমিলিয়ে, রিলস বা পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবের মুসৌরিতে গিয়ে এই ব্রিটিশ আমলের হেরিটেজ ক্যাফেতে সময় কাটানো ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty