হানিমুনে খাদের ধারে স্বামীর রক্তেভেজা রহস্য! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবশেষে আত্মসমর্পণ সোনমের

স্বামীকে খুন করার অভিযোগে দীর্ঘ এক বছর আইনি লড়াই এবং নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করলেন সোনম রঘুবংশী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছিল মেঘালয়ের পাহাড়ি উপত্যকায়, যা দেশজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছিল। গত বুধবার একটি বিশেষ ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত সোনম। সর্বোচ্চ আদালতের কড়া হুঁশিয়ারি এবং জামিন বাতিলের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এই পদক্ষেপে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা সোনম রঘুবংশীর বিরুদ্ধে তাঁর ব্যবসায়ী স্বামী রাজা রঘুবংশীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৩ মে মেঘালয়ের মনোরম সোহরা বা চেরাপুঞ্জি এলাকায় হানিমুনে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান এই দম্পতি। এর ঠিক কিছুদিন পর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২ জুন একটি গভীর খাদ থেকে স্বামী রাজা রঘুবংশীর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে নেমে মেঘালয় পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পায়। পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, সোনম তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে গভীর ষড়যন্ত্র করেছিলেন। মূলত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যেই হানিমুনের মতো পবিত্র মুহূর্তকে রক্তাক্ত করে তোলেন সোনম। অভিযোগ রয়েছে যে, রাজাকে খুন করার জন্য প্রবাসীর মতো ঠান্ডা মাথায় ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করা হয়েছিল। এই ভয়াবহ অপরাধের পর পুলিশ সোনমকে গ্রেফতার করলেও আইনি মারপ্যাঁচে মামলা দীর্ঘায়িত হতে শুরু করে।

ঘটনার তদন্ত চলাকালীন গত বছরের ২৯ জুন মেঘালয় হাইকোর্ট অভিযুক্ত সোনমকে জামিন দেওয়ার ট্রায়াল কোর্টের নির্দেশ বহাল রেখেছিল। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, রাজ্য সরকারের দায়ের করা জামিন বাতিলের আবেদন খারিজ করা হচ্ছে। কিন্তু রাজ্য সরকার হাল ছাড়েনি এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সম্প্রতি বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। শীর্ষ আদালত অত্যন্ত কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে জানায় যে, এই স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধের বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত থাকলে তা বিচার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ফলস্বরূপ, সুপ্রিম কোর্ট গত ২৩ জুলাই সোনমের জামিন সরাসরি বাতিল করে দেয় এবং তাঁকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের চরম নির্দেশ দেয়।

পূর্ব খাসি হিলস জেলার পুলিশ সুপার বিবেক সিয়াম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ইন্দোরের বাসিন্দা এই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং পুলিশের তৎপরতার জেরে এই হাই-প্রোফাইল হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া এবার আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শীর্ষ আদালত এও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যদি বিচার প্রক্রিয়া পর্যাপ্তভাবে অগ্রসর না হয় বা সম্পন্ন না হয়, তবে সোনম রঘুবংশী আইন অনুযায়ী নতুন করে জামিনের আবেদন জানানোর অধিকার পাবেন। আপাতত আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপে ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন নিহত রাজা রঘুবংশীর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা।