জওয়ানদের পাশে ডিজে! পেলেট গান বিতর্কের মাঝেই বড় দায়িত্ব নিলেন সিআরপিএফ ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং!

NEET প্রশ্নফাঁস আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF-এর ভূমিকা নিয়ে চলা তীব্র বিতর্কের আবহে এবার সরাসরি জওয়ানদের পাশে এসে দাঁড়ালাল কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনী। বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় ছাপিয়ে সিআরপিএফ (CRPF)-এর ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং (Gyanendra Pratap Singh) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, কর্তব্য পালনের সময় জওয়ানরা যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তার সম্পূর্ণ আইনি ও নৈতিক দায়ভার তিনি নিজে কাঁধে নেবেন। বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে কোনো রকম ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সিআরপিএফের একটি বিশেষ ইনভেস্টিচার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে, অপারেশনাল ব্যাটেলিয়ন হোক কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো ইউনিট—কর্তব্যরত অবস্থায় নেওয়া প্রতিটি সদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের পূর্ণ দায়ভার তাঁর নিজের। বাহিনীর শীর্ষকর্তার এই অভয়বাণী জওয়ানদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কাজের খাতিরে যদি জবাবদিহি করার কোনো প্রয়োজন পড়ে, তবে সেই গুরুদায়িত্ব একজন প্রধান হিসেবে তিনি নিজেই বহন করবেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন আগেই রাজধানীতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলা বিশাল ছাত্র আন্দোলনের সময় আরএএফের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী পেলেট গান ব্যবহার করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এমনকি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের জেরে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ আহত হওয়ায় চারদিকে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অতীতেও এই ধরনের বলপ্রয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কৌশল নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এই ঘটনার পরপরই এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিআরপিএফ প্রধান জানিয়েছিলেন যে, ওই সহিংসতার ঘটনার পর বাহিনীর প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) মেনে একটি কঠোর ও পেশাদার মূল্যায়ন বা ‘পোস্ট-ইভেন্ট অ্যাসেসমেন্ট’ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, যেকোনো বড় আকারের অভিযানের পরেই এই ধরনের পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করা সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের নিয়মিত অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রক্রিয়ার একটি সুনির্দিষ্ট অংশ।
প্রসঙ্গত, আরএএফ হলো সিআরপিএফ-এরই একটি বিশেষায়িত ও অভিজাত ইউনিট, যাদের ওপর মূলত দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, উগ্র জনতা সামলানো এবং যেকোনো অশান্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের গুরুদায়িত্ব থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে এই বাহিনী নিরলস কাজ করে চলেছে। তাছাড়া, দেশের অভ্যন্তরে উগ্রবাদ দমন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জঙ্গিদমন এবং মধ্য ভারতের মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গল এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে আসছে সিআরপিএফ। বিশেষ করে এই বাহিনীর কোবরা (CoBRA) কমান্ডোরা গেরিলা যুদ্ধে বিশেষভাবে পারদর্শী। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের নভেম্বরে মণিপুরের জিরিবামে কুকি জঙ্গিদের সঙ্গে চলা ভয়াবহ সংঘর্ষে সিআরপিএফ জওয়ানরা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ১০ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে নিকেশ করেছিলেন।
বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই অত্যন্ত জটিল, স্পর্শকাতর এবং রক্তগরম পরিস্থিতিতে জওয়ানদের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মাঠপর্যায়ের এই কঠিন বাস্তবতার কথা সম্পূর্ণ অনুধাবন করেই সিআরপিএফ প্রধান জওয়ানদের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের সব রকম সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন।